ব্যবহার
ক্লোমিপ্রামিন হাইড্রোক্লোরাইড একটি ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট। বিষণ্ণতা, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি (যেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা বারবার আসে এবং একই কাজ বারবার করতে হয়), ফোবিয়া ও প্যানিক ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। নারকোলেপসির সাথে সম্পর্কিত ক্যাটাপ্লেক্সিতে (হঠাৎ পেশি দুর্বল হয়ে পড়া) কখনো কখনো চিকিৎসক এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
ক্লোমিপ্রামিন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের মাঝে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন নামের রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ায়, কারণ এটি এগুলোর পুনঃশোষণ আটকে দেয়। সেরোটোনিনের ওপর জোরালো প্রভাবের কারণে এটি ওসিডিতে বিশেষভাবে কার্যকর। মেজাজ বা উপসর্গের উন্নতি পেতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে, ওসিডিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক যেভাবে লিখে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই সেবন করুন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, পরে কার্যকর সবচেয়ে কম মাত্রায় রাখা হয়। ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে বলে প্রায়ই সন্ধ্যায় খেতে বলা হয়। ট্যাবলেট পানি দিয়ে পুরো গিলে খান, খাবারের সাথে বা ছাড়া। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মক্লোবেমাইড বা সেলেজিলিনের মতো এমএও ইনহিবিটরের সাথে বা তা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে, কিংবা লাইনজোলিডের সাথে এটি খাবেন না। ফ্লুওক্সেটিন, সারট্রালিন, ট্রামাডল, ট্রিপটান বা লিথিয়ামের মতো সেরোটোনিন বাড়ানো ঔষধের সাথে নিলে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে। ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন ও সিমেটিডিন ক্লোমিপ্রামিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ ও কড়া ব্যথানাশক ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়। হৃৎছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়।
কারা খাবেন না
সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাকের পর, নির্দিষ্ট হৃৎছন্দের সমস্যা বা হার্ট ব্লকে, গুরুতর লিভার রোগে, চিকিৎসাহীন ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমায়, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ম্যানিক পর্যায়ে এবং ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুম ঘুম ভাব, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি, ঘাম, ওজন বৃদ্ধি, হাত কাঁপা, প্রস্রাবে কষ্ট এবং বীর্যপাত দেরিতে হওয়ার মতো যৌন সমস্যা। কম দেখা যায় এমন প্রভাব হলো দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বয়স্কদের বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি।
নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসলে, খিঁচুনি হলে, অজ্ঞান হলে বা হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হলে, পেশি শক্ত হয়ে উচ্চ জ্বর ও বিভ্রান্তি হলে, সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ (অস্থিরতা, ঘাম, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন) দেখা দিলে, হঠাৎ চোখে ব্যথা ও ঝাপসা দৃষ্টি হলে বা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করুন; প্রসবের কাছাকাছি সময়ে নিলে নবজাতকের সাময়িক উইথড্রয়াল উপসর্গ হতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চিকিৎসার শুরুতে বা মাত্রা বদলের পর, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট আত্মহত্যার চিন্তা বাড়াতে পারে; পরিবারের সদস্যরা মেজাজ ও আচরণের পরিবর্তন খেয়াল রাখবেন। হৃদরোগ, মৃগী, গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া, থাইরয়েডের রোগ, ডায়াবেটিস ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। এটি ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে, তাই প্রভাব না বুঝে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টের মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক; খিঁচুনি, অচেতনতা, খুব কম রক্তচাপ ও প্রাণঘাতী হৃৎছন্দের সমস্যা হতে পারে। রোগী সুস্থ মনে হলেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।