ব্যবহার
নারিকেল (কোকোস নুসিফেরা) কিছু ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক টনিকের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত বিভিন্ন বাদাম, বীজ ও ভেষজের সাথে। এসব ঐতিহ্যবাহী মিশ্রণে এটি সাধারণ দুর্বলতা, শক্তি ও সতেজতার জন্য পুষ্টিকর টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নারিকেল তেল ত্বক ও চুলে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও ব্যবহার হয়। টনিকের ঔষধি দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত এবং এগুলো কোনো রোগ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
নারিকেলের শাঁসে চর্বি, আঁশ, শর্করা ও সামান্য খনিজ থাকে, তাই এটি টনিকে ক্যালরি ও পুষ্টি যোগ করে। নারিকেল তেল ত্বক ও চুলের উপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে পানি হারানো কমায়। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় নারিকেলকে ঠান্ডা ও শক্তিবর্ধক বলা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টনিক লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান, সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার। ত্বক বা চুলে প্রয়োজনমতো নারিকেল তেল লাগান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
নারিকেলের নিজের তেমন উল্লেখযোগ্য ঔষধ প্রতিক্রিয়া নেই। তবে মিশ্র টনিকে অন্যান্য ভেষজ থাকে যা ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ বা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
নারিকেল বা মিশ্রণের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া মিষ্টি টনিক এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বেশি পরিমাণে খেলে পেটের অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানা
- নিয়মিত সমৃদ্ধ টনিক খেলে ওজন বৃদ্ধি
- কদাচিৎ ত্বকে অ্যালার্জি
চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার হিসেবে নারিকেল গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ। তবে মিশ্র টনিকে থাকা অন্যান্য ভেষজের নিরাপত্তা জানা নেই, তাই এ সময় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
নারিকেলে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি; উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ থাকলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাবেন না। মিশ্র পণ্যের লেবেলে চিনি ও এড়িয়ে চলার মতো ভেষজ আছে কি না দেখে নিন। নির্ণীত রোগের চিকিৎসার বদলে টনিক ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়া হতে পারে। অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতির উপাদান; পুষ্টিকর টনিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।