ব্যবহার
কনজুগেটেড ইস্ট্রোজেন নারী হরমোনের (ইস্ট্রোজেন) একটি মিশ্রণ। ট্যাবলেট হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) হিসেবে মেনোপজের মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গ যেমন হট ফ্লাশ ও রাতে ঘাম কমাতে, অন্য চিকিৎসা নিতে না পারলে মেনোপজের পর হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) প্রতিরোধে এবং ডিম্বাশয়ের কিছু সমস্যায় ইস্ট্রোজেন কম থাকলে ব্যবহৃত হয়। ভাজাইনাল ক্রিম মেনোপজের পর যোনির টিস্যু পাতলা হওয়ার কারণে যোনির শুষ্কতা, চুলকানি ও সহবাসে ব্যথায় ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
মেনোপজের পর ডিম্বাশয় অনেক কম ইস্ট্রোজেন তৈরি করে, ফলে হট ফ্লাশ, যোনির শুষ্কতা ও দ্রুত হাড় ক্ষয় হয়। কনজুগেটেড ইস্ট্রোজেন এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করে। এটি মস্তিষ্ক, যোনি, হাড় ও অন্যান্য টিস্যুর ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরে কাজ করে উপসর্গ কমায় এবং হাড় ক্ষয় ধীর করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ও চিকিৎসার সময়কাল চিকিৎসক ঠিক করবেন; উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো সবচেয়ে কম মাত্রায় এবং সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত। ঠিক নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। জরায়ু আছে এমন নারীদের জরায়ুর আস্তরণ রক্ষার জন্য সাধারণত একটি প্রোজেস্টোজেনও দরকার হয়। ট্যাবলেট প্রতিদিন একই সময়ে একবার খান। ভাজাইনাল ক্রিম অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে নির্দেশমতো দিন, সাধারণত শুরুতে প্রতিদিন এবং পরে কম ঘন ঘন। অন্তত বছরে একবার চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা পুনর্বিবেচনা করান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়োর্টের মতো লিভারের এনজাইম বাড়ানো ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজোল ও গ্রেপফ্রুটের রস মাত্রা বাড়াতে পারে। ইস্ট্রোজেন থাইরয়েড হরমোন (লেভোথাইরক্সিন), ওয়ারফারিন, ডায়াবেটিসের ঔষধ ও ল্যামোট্রিজিনের প্রভাব বদলাতে পারে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
স্তন ক্যানসার বা অন্য ইস্ট্রোজেন-নির্ভর ক্যানসার থাকলে বা আগে হয়ে থাকলে, অব্যাখ্যাত যোনিপথে রক্তপাত, পা বা ফুসফুসে রক্ত জমাট, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক, সক্রিয় লিভার রোগ, পরফাইরিয়া, রক্ত জমাট বাঁধার রোগ, চিকিৎসাহীন জরায়ুর আস্তরণ পুরু হওয়া, গর্ভাবস্থা অথবা অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে স্তনে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেট ফাঁপা, পায়ে টান, ফোঁটা ফোঁটা রক্তপাত, যোনিস্রাব ও মেজাজের পরিবর্তন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে রক্ত জমাট, স্ট্রোক, পিত্তথলির রোগ এবং স্তন, ডিম্বাশয় ও জরায়ুর আস্তরণের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে (বিশেষ করে প্রোজেস্টোজেন ছাড়া)।
এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, কাশির সাথে রক্ত, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশ ভাব, কথা বলা বা দেখায় সমস্যা, ত্বক বা চোখ হলুদ, স্তনে চাঁড়া অথবা অপ্রত্যাশিত ভারী যোনিপথে রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় কনজুগেটেড ইস্ট্রোজেন ব্যবহার করা যাবে না; গর্ভবতী হলে বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি পরামর্শ করা হয় না, কারণ এটি দুধের পরিমাণ কমাতে পারে এবং দুধে যায়।
সতর্কতা
এইচআরটি হৃদরোগ বা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে না এবং সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। স্তন পরীক্ষা ও পরামর্শমতো স্ক্রিনিংসহ নিয়মিত চেকআপ করান। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, মৃগী, হাঁপানি, এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড, লিভার বা পিত্তথলির রোগ অথবা রক্ত জমাটের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘ সময় শয়্যাশায়ী থাকার আগে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা বন্ধ রাখুন। ভাজাইনাল ক্রিম ল্যাটেক্সের কন্ডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমিভাব, বমি, স্তনে ব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব ও যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। গুরুতর সমস্যার সম্ভাবনা কম, তবে বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু খেলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
যৌন হরমোন, ইস্ট্রোজেন (হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।