ব্যবহার
- খাবার থেকে যথেষ্ট ক্যালসিয়াম না পেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
- অস্টিওপোরোসিসে (হাড় পাতলা ও দুর্বল হয়ে যাওয়া) হাড় ভালো রাখতে, সাধারণত হাড়ের অন্য চিকিৎসার সাথে।
- গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো, বেশি বয়স এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার সময় ক্যালসিয়ামের বাড়তি চাহিদা পূরণে।
- বুক জ্বালা ও অম্লজনিত বদহজমে (ক্যালসিয়াম কার্বোনেট অ্যান্টাসিড হিসেবেও কাজ করে)।
প্রচলিত ক্যালসিয়াম ঔষধে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে, আর বেশিরভাগের সাথে ভিটামিন ডি৩ (কোলেক্যালসিফেরল) থাকে, যা শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের প্রধান খনিজ, আর মাংসপেশি, স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কাজেও এটি দরকার। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খেলে খাবারের ঘাটতি পূরণ হয়। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাকস্থলীর অম্লও প্রশমিত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: খাবার থেকে কতটা ক্যালসিয়াম পাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে সাধারণত দিনে একবার বা দুইবার ৫০০ থেকে ৬০০ mg মৌলিক ক্যালসিয়াম, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের সাপ্লিমেন্ট থেকে দিনে ১,২০০ mg এর বেশি দরকার হয় না।
- প্যাকেটে লেখা শক্তি মৌলিক ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বোঝায় (যেমন ১,২৫০ mg ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে ৫০০ mg ক্যালসিয়াম থাকে)।
- শিশু, গর্ভাবস্থা ও কিডনির রোগে: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
খাবারের সাথে বা খাবারের ঠিক পরে খান, কারণ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট খাবারের সাথে ভালো শোষিত হয়। চুষে বা চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট চিবিয়ে গিলুন। দিনে ৫০০ mg এর বেশি খেলে দুই ভাগে ভাগ করে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম আয়রন, জিঙ্ক, লেভোথাইরক্সিন, ডক্সিসাইক্লিনের মতো টেট্রাসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিনের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যালেনড্রোনেটের শোষণ কমায়। এগুলো ক্যালসিয়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে খান (লেভোথাইরক্সিন অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে; অ্যালেনড্রোনেট সকালে খালি পেটে সবার আগে)।
- হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইডের মতো থিয়াজাইড ডাইইউরেটিক রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে।
- ডিগক্সিন খেলে ক্যালসিয়াম বেশি হলে হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে।
- ওমিপ্রাজলের মতো অম্লনাশক ঔষধ শোষণ কমাতে পারে; খাবারের সাথে খেলে সুবিধা হয়।
- পরামর্শ ছাড়া একসাথে দুটি ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি এর ঔষধ খাবেন না।
কারা খাবেন না
- রক্তে বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত কিডনির পাথর থাকলে, ডাক্তার না বললে।
- কিডনি মারাত্মকভাবে বিকল হলে।
- প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তা, সারকয়ডোসিস বা ভিটামিন ডি এর আধিক্য থাকলে (ভিটামিন ডি৩ যুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে)।
- ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও হালকা পেটের অস্বস্তি।
রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ (খুব পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, বমি বমি ভাব ও বমি, বিভ্রান্তি, মাংসপেশির দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন), পাঁজরের পাশে বা পিঠে তীব্র ব্যথার সাথে প্রস্রাবে রক্ত (কিডনির পাথর হতে পারে), অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
পরামর্শকৃত মাত্রায় নিরাপদ, এবং গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রায়ই খেতে বলা হয়। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রার বেশি খাবেন না।
সতর্কতা
কিডনির রোগ, কিডনিতে পাথরের ইতিহাস, হৃদরোগ থাকলে বা ডিগক্সিন খেলে ডাক্তারকে জানান। একসাথে কয়েকটি ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি এর ঔষধ খাবেন না। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম ও কিডনির পরীক্ষা লাগতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, বিভ্রান্তি, দুর্বলতা ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (খনিজ উপাদান), অ্যান্টাসিড হিসেবেও কাজ করে।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।