ব্যবহার
কপার গ্লুকোনেট ক্ষুদ্র খনিজ উপাদান কপার বা তামার একটি উৎস। কপারের ঘাটতি প্রতিরোধ এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, আয়রনের ব্যবহার, হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুর কাজে সহায়তার জন্য মাল্টিভিটামিন, খনিজ ও রক্তবর্ধক টনিকে এটি যোগ করা হয়। কপারের ঘাটতি কম দেখা যায়, তবে অপুষ্টি, দীর্ঘদিন বেশি জিংক খাওয়া, অন্ত্রের অস্ত্রোপচার বা শোষণজনিত সমস্যায় হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
শরীরের অনেক এনজাইমের কাজে কপার দরকার। এটি আয়রন শোষণ ও পরিবহনে সাহায্য করে যাতে হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পারে, সংযোজক কলা ও হাড় গঠনে সহায়তা করে, কোষে শক্তি উৎপাদনে অংশ নেয়, কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং স্নায়ু ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সুস্থ রাখে। গ্লুকোনেট কপারকে সহজে শোষিত হতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কপার গ্লুকোনেট সাধারণত মিশ্র পণ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া হয়। লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো, পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের পরে সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ৯০০ মাইক্রোগ্রাম কপার, এবং সব উৎস মিলিয়ে দিনে ১০ mg এর বেশি নেওয়া উচিত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উচ্চ মাত্রার জিংক কপারের শোষণ কমায়। পেনিসিলামিন ও ট্রায়েন্টিন কপারকে আটকে দেয়। একই সময়ে আয়রন ও অ্যান্টাসিড খেলে শোষণ কমতে পারে। টেট্রাসাইক্লিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক থেকে খনিজ পণ্য অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
কারা খাবেন না
উইলসন্স ডিজিজ (বংশগত রোগ যেখানে শরীরে কপার জমে) থাকলে বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গুরুতর লিভারের রোগে এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় কপার সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বিশেষ করে খালি পেটে খেলে বমিভাব, পেটব্যথা, মুখে ধাতব স্বাদ বা ডায়রিয়া হতে পারে।
বারবার বমি (বিশেষ করে রক্তসহ), তীব্র পেটব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কপারের প্রয়োজন সামান্য বাড়ে (দৈনিক প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৩০০ মাইক্রোগ্রাম)। গর্ভকালীন ভিটামিনে থাকা স্বাভাবিক পরিমাণ উপযুক্ত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ মাত্রার কপার সাপ্লিমেন্ট নেবেন না।
সতর্কতা
একাধিক সাপ্লিমেন্টের সাথে বাড়তি কপার খাবেন না, কারণ মোট পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। লিভার বা কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন। দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রার জিংক খেলে কপারের মাত্রা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত কপারে বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা হতে পারে; খুব বেশি পরিমাণে লিভার ও কিডনির ক্ষতি এবং লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যেতে পারে। বেশি গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু হলে, জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (ক্ষুদ্র খনিজ উপাদান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।