ব্যবহার
কারকিউমা লংগা হলো হলুদ, যা প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত মসলা। হলুদের নির্যাস, যাতে এর প্রধান কার্যকর উপাদান কারকিউমিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা থাকে, ভেষজ সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়া হয়। প্রচলিতভাবে এটি গিরার ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া (যেমন অস্টিওআর্থ্রাইটিস), বদহজম ও পেট ফাঁপায় এবং সাধারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত ও গবেষিত। প্রমাণ সামান্য ও মিশ্র, এবং এটি বাত, লিভারের রোগ, ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগের নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
ধারণা করা হয়, কারকিউমিন শরীরে ফোলা ও ব্যথা সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক সংকেত বন্ধ করে প্রদাহ কমায়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষের ক্ষতিকর অস্থির অণুগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং পিত্তরস নিঃসরণ বাড়িয়ে হজমে সহায়তা করতে পারে। কারকিউমিন একা ভালোভাবে শোষিত হয় না, তাই কিছু পণ্যে গোলমরিচের নির্যাস (পাইপারিন) যোগ করা হয় বা বিশেষ রূপ ব্যবহার করা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা ডাক্তার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। সাধারণত খাবারের সাথে খাওয়া হয়। লেবেলে লেখা পরিমাণের বেশি খাবেন না, এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে হলুদের নির্যাস খেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডায়াবেটিসের ঔষধ খাওয়া রোগীদের রক্তে শর্করা আরও কমে যেতে পারে। পাইপারিনযুক্ত পণ্য কয়েকটি ঔষধের রক্তের মাত্রা বদলে দিতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- হলুদ বা আদা গোত্রের গাছে অ্যালার্জি থাকলে।
- পিত্তথলিতে পাথর বা পিত্তনালি বন্ধ থাকলে।
- রক্তপাতজনিত রোগ থাকলে।
- পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগের ২ সপ্তাহে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হলুদের নির্যাস সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা, ডায়রিয়া এবং কদাচিৎ ত্বকে ফুসকুড়ি। ঘন হলুদ সাপ্লিমেন্টে বিরল ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে পড়লে, অথবা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ নিরাপদ। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ঘন হলুদ নির্যাসের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা
লিভারের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। লিভারের রোগ, পিত্তথলির রোগ, রক্তপাতের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। গিরার ব্যথার সাথে ফোলা, লালচে ভাব বা জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। লেবেলের চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে বা উপসর্গ তীব্র হলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ সাপ্লিমেন্ট (প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিজ্জ নির্যাস)।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।