ব্যবহার
সাইপারমেথ্রিন একটি কীটনাশক। এটিযুক্ত ইমালসিফায়াবল কনসেন্ট্রেট (EC) পণ্য পানিতে পাতলা করে গবাদিপশু ও পশুর ঘরে আঁটালি, উকুন, মাইট ও মাছির মতো বহিঃপরজীবী নিয়ন্ত্রণে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফসল ও ভবনে কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহার হয়। এ ধরনের পশু চিকিৎসার পণ্য পশু ও খামারে ব্যবহারের জন্য, মানুষের শরীরে ব্যবহারের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
সাইপারমেথ্রিন একটি সিনথেটিক পাইরেথ্রয়েড, চন্দ্রমল্লিকা ফুলে পাওয়া প্রাকৃতিক কীটনাশকের কৃত্রিম রূপ। এটি কীটের স্নায়ুর সোডিয়াম চ্যানেল খোলা রাখে, ফলে অতিরিক্ত উত্তেজনা, পক্ষাঘাত ও পরজীবীর মৃত্যু হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণী এটি কীটের চেয়ে অনেক দ্রুত ভাঙে, তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পশুর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ; তবে মাছ, মৌমাছি ও বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা পশু চিকিৎসকের নির্দেশ হুবহু মেনে পাতলা করে পণ্য অনুযায়ী স্প্রে, ডিপ বা পোর-অন হিসেবে প্রয়োগ করুন। পাতলা করার হার, পশুপ্রতি পরিমাণ ও পুনরায় প্রয়োগের বিরতি প্রজাতি ও পরজীবীর ওপর নির্ভর করে। মেশানো ও প্রয়োগের সময় গ্লাভস ও সুরক্ষা পোশাক পরুন। ক্ষতস্থানে লাগাবেন না এবং বিড়ালের উপর ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- নির্দেশ ছাড়া অন্য কীটনাশক, বিশেষ করে অরগানোফসফেটের সাথে একসাথে ব্যবহার করবেন না, বিষক্রিয়া বাড়তে পারে।
- কিছু মিশ্র পণ্যে থাকা পাইপারোনাইল বিউটক্সাইড এর শক্তি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- বিড়াল, কারণ তারা পাইরেথ্রয়েডে খুব সংবেদনশীল এবং বিষক্রিয়া হতে পারে।
- খুব ছোট, অসুস্থ, দুর্বল বা পীড়িত পশু, পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া।
- মানুষের শরীরে ব্যবহারের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পশুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম, তবে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি, অস্থিরতা বা লালা পড়া হতে পারে। যাঁরা পণ্যটি নাড়াচাড়া করেন তাঁদের ত্বকে লাগলে, বিশেষ করে মুখে, অস্থায়ী ঝিনঝিন, জ্বালা বা অবশ ভাব হতে পারে। স্প্রের কুয়াশা শ্বাসের সাথে গেলে নাক ও গলায় জ্বালা হতে পারে।
কোনো মানুষ পণ্যটি গিলে ফেললে, অথবা সংস্পর্শের পর খিঁচুনি, পেশি কাঁপা, তীব্র মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট হলে লেবেল সঙ্গে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কোনো পশু (বিশেষ করে বিড়াল) কাঁপলে, লালা পড়লে, খিঁচুনি হলে বা ভেঙে পড়লে দ্রুত পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভবতী বা দুগ্ধবতী পশুর ক্ষেত্রে লেবেলের নির্দেশ মানুন এবং দুধের উইথড্রয়াল পিরিয়ড মেনে চলুন। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো নারীরা সম্ভব হলে ঘন কীটনাশক নাড়াচাড়া এড়িয়ে চলুন, আর করতে হলে অবশ্যই গ্লাভস ও সুরক্ষা পোশাক পরুন।
সতর্কতা
- গ্লাভস, লম্বা হাতার জামা ও মাস্ক পরুন; নাড়াচাড়ার সময় খাওয়া, পান করা বা ধূমপান করবেন না; পরে ত্বক ও কাপড় ধুয়ে ফেলুন।
- লেবেলে লেখা মাংস ও দুধের উইথড্রয়াল পিরিয়ড মেনে চলুন।
- মাছ ও মৌমাছির জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত: পুকুর, নদী বা পানির উৎস দূষিত করবেন না এবং ফুলে ভরা গাছে স্প্রে করবেন না।
- ক্ষতিকর ঔষধ দেওয়া পশু শুকানো পর্যন্ত বিড়ালকে দূরে রাখুন।
- কখনো খাবার বা পানীয়ের পাত্রে রাখবেন না; খালি পাত্র নিরাপদভাবে ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
পশুর মাত্রাতিরিক্ত হলে কাঁপুনি, লালা পড়া, টলমল হাঁটা ও খিঁচুনি হতে পারে। মানুষ গিলে ফেললে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, পেশি কাঁপা ও খিঁচুনি হতে পারে; EC পণ্যের দ্রাবক বমির সাথে ফুসফুসে গেলে ক্ষতি করতে পারে। বমি করানোর চেষ্টা করবেন না; জরুরি চিকিৎসা নিন। চিকিৎসা সহায়ক ধরনের।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিনথেটিক পাইরেথ্রয়েড কীটনাশক ও বহিঃপরজীবীনাশক (পশু চিকিৎসা ও কৃষি ব্যবহার)।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে ঠান্ডা, শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায়, আলো, তাপ ও আগুন থেকে দূরে, মূল বন্ধ পাত্রে, খাবার ও পশুখাদ্য থেকে আলাদা করে এবং শিশু ও পশুপাখির নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।