ব্যবহার
সাইপ্রোটেরন অ্যাসিটেট একটি অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ও প্রোজেস্টোজেন। কম মাত্রায় এটি ইথিনাইলইস্ট্রাডিওলের সাথে একটি বড়িতে মিশিয়ে পুরুষ হরমোনের প্রতি সংবেদনশীলতাজনিত মাঝারি থেকে তীব্র ব্রণ এবং/অথবা শরীর বা মুখে অতিরিক্ত লোম (হারসিউটিজম) আছে এমন নারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়, প্রায়ই পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে, যখন অন্য চিকিৎসায় কাজ হয়নি; এই বড়ি গর্ভধারণও প্রতিরোধ করে। এককভাবে বেশি মাত্রায় এটি প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পুরুষদের অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষার মতো কিছু অবস্থার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
সাইপ্রোটেরন অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) রিসেপ্টর ব্লক করে, ফলে টেস্টোস্টেরন ত্বক, লোমকূপ ও প্রোস্টেটে কাজ করতে পারে না। এটি পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণও কমিয়ে টেস্টোস্টেরন তৈরি কমায়। নারীদের ক্ষেত্রে এতে ত্বকে তেল তৈরি ও অতিরিক্ত লোম গজানো কমে; ইথিনাইলইস্ট্রাডিওলের সাথে এটি ডিম্বস্ফোটনও বন্ধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি একটি হরমোন ঔষধ, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই খান। নারীদের মিশ্র বড়ি সাধারণত প্রতিদিন একই সময়ে ২১ দিন খেয়ে ৭ দিন বিরতি দিতে হয়, প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী; ব্রণ ও লোমের উন্নতি হতে কয়েক মাস লাগে। পুরুষদের উচ্চ মাত্রার ট্যাবলেট শুধু বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্রে ব্যবহার করা হয়। মিশ্র বড়ির সাথে অন্য কোনো হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফিনোবার্বিটোন, কিছু এইচআইভির ঔষধ ও সেন্ট জনস ওয়র্টের মতো এনজাইম বাড়ানো ঔষধ: কার্যকারিতা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের সুরক্ষা কমায়।
- কেটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভির: এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ডায়াবেটিসের ঔষধ: প্রয়োজন বদলাতে পারে।
- ল্যামোট্রিজিন: মিশ্র বড়ির সাথে এর মাত্রা কমে যেতে পারে।
- অন্য হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ: একসাথে ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
শিরা বা ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, রক্ত জমাটের উচ্চ ঝুঁকি, অরাসহ মাইগ্রেন, তীব্র উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালির ক্ষতিসহ ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ বা টিউমার, মেনিঞ্জিওমা (সাধারণত নিরীহ মস্তিষ্কের টিউমার) বা এর ইতিহাস, হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সার (মিশ্র বড়ির ক্ষেত্রে), অকারণে যোনিপথে রক্তপাত, গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানো বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। শিশুদের জন্য নয়, এবং শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্যও নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমিভাব, মাথাব্যথা, স্তনে ব্যথা, ওজনের পরিবর্তন।
- মেজাজের পরিবর্তন বা বিষণ্ণতা, যৌন আগ্রহ কমা।
- অনিয়মিত রক্তপাত বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত।
- উচ্চ মাত্রায় পুরুষদের: ক্লান্তি, স্তন বড় হওয়া, শুক্রাণু ও প্রজনন ক্ষমতা কমা, লিঙ্গোত্থানে সমস্যা।
- কদাচিৎ: লিভারের ক্ষতি (মূলত উচ্চ মাত্রায়), রক্ত জমাট, দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় মেনিঞ্জিওমা।
এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, মুখ বা হাত-পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশভাব, তীব্র মাথাব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব বা পেটে তীব্র ব্যথা, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি ছেলে শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী মনে হলে বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যাবে না।
সতর্কতা
এই মিশ্র বড়িতে কিছু অন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির চেয়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি বেশি, বিশেষ করে প্রথম বছরে, ধূমপায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী, অতিরিক্ত ওজন বা চলাফেরা কম এমন ব্যক্তিদের। পরামর্শ অনুযায়ী বড় অপারেশনের প্রায় ৪ সপ্তাহ আগে বন্ধ করুন। ত্বক ও লোমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এলে ডাক্তার ঔষধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা বিবেচনা করবেন। লিভার পরীক্ষা ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হতে পারে। বিষণ্ণতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে রক্ত জমাটের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমিভাব, বমি এবং নারীদের যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ও প্রোজেস্টোজেন (হরমোনজাতীয় ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।