ব্যবহার
ডি-আলফা টোকোফেরল হলো ভিটামিন ই এর প্রাকৃতিক রূপ, যা একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ভিটামিন ই এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; এই ঘাটতি সাধারণত যাদের শরীর ঠিকমতো চর্বি শোষণ করতে পারে না (যেমন দীর্ঘমেয়াদি প্যানক্রিয়াটাইটিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, লিভার বা পিত্তনালির রোগ) এবং কিছু অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এবং ত্বক ও চুলের যত্নেও এটি ব্যাপকভাবে খাওয়া হয়, যদিও ঘাটতি পূরণের বাইরে এর উপকারের প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন ই কোষের চর্বিযুক্ত পর্দায় থাকে এবং ফ্রি র্যাডিক্যাল নামের অস্থির অণুর ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে। এতে স্নায়ু, মাংসপেশি, চোখ, ত্বক ও লোহিত রক্তকণিকা সুস্থ থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজে সহায়তা হয়। কৃত্রিম রূপের (ডিএল-আলফা) চেয়ে প্রাকৃতিক রূপ (ডি-আলফা) শরীর কিছুটা ভালোভাবে কাজে লাগায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রস্তাবিত চাহিদা প্রায় ১৫ mg ভিটামিন ই, যা বেশিরভাগ মানুষ সুষম খাবার থেকেই পান। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একটি ক্যাপসুল (সাধারণত ২০০ IU বা ৪০০ IU), কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে, অথবা ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দিনে ১,০০০ mg (প্রাকৃতিক রূপে প্রায় ১,৫০০ IU) এর বেশি খাবেন না। ঘাটতির চিকিৎসার মাত্রা এবং শিশুদের মাত্রা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অ্যাসপিরিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টিরামিন ও মিনারেল অয়েল এর শোষণ কমাতে পারে। কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনি যেসব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- ভিটামিন ই বা ক্যাপসুলের কোনো উপাদানে (যেমন সয়াবিন তেল বা জেলাটিন) অ্যালার্জি থাকলে।
- রক্তপাতজনিত রোগ বা ভিটামিন কে এর ঘাটতি থাকলে উচ্চমাত্রায়, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় ভিটামিন ই সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। উচ্চমাত্রায় বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা এবং সহজে রক্তপাত বা কালশিটে পড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিক রক্তপাত (যেমন নাক দিয়ে রক্ত পড়া না থামা, প্রস্রাবে রক্ত, অথবা কালো কিংবা রক্তমিশ্রিত পায়খানা), হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, অথবা শ্বাসকষ্টসহ মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ভিটামিন ই প্রয়োজন, এবং খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণ বা সাধারণ গর্ভকালীন ভিটামিনের পরিমাণ নিরাপদ। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ সময় উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
সতর্কতা
পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই বন্ধ করুন। রক্তপাতের সমস্যা, স্ট্রোকের ইতিহাস বা ভিটামিন কে এর ঘাটতি থাকলে, অথবা রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় খাওয়ার কোনো প্রমাণিত অতিরিক্ত উপকার নেই, বরং ক্ষতি হতে পারে। আপনার অন্য সাপ্লিমেন্টেও ভিটামিন ই আছে কিনা দেখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব বেশি পরিমাণে খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা ও রক্তপাতের সমস্যা হতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু খেলে, চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন (চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।