ব্যবহার
ডাবিগ্যাট্রান এটেক্সিলেট মুখে খাওয়ার রক্ত পাতলা করার ঔষধ (অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট)। হার্টের ভালভের রোগ ছাড়া অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে (অনিয়মিত হৃৎছন্দ) স্ট্রোক ও রক্তজমাট প্রতিরোধে, পায়ের শিরায় রক্তজমাট (ডিভিটি) ও ফুসফুসে রক্তজমাট (পালমোনারি এমবোলিজম) এর চিকিৎসা ও পুনরাবৃত্তি রোধে, এবং হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের পরে রক্তজমাট প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
শোষিত হওয়ার পর এটি ডাবিগ্যাট্রানে পরিণত হয়, যা সরাসরি থ্রম্বিনকে আটকায়। থ্রম্বিন একটি প্রধান প্রোটিন যা তরল রক্তকে জমাট বাঁধায়। এটি আটকালে ক্ষতিকর রক্তজমাট তৈরি বা বাড়া কঠিন হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ব্যবহারের কারণ, বয়স, কিডনির কার্যকারিতা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই খান। অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ১৫০ mg দিনে দুইবার, অথবা বয়স্ক বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি এমন ব্যক্তিদের ১১০ mg দিনে দুইবার। ক্যাপসুল এক গ্লাস পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান; খুলবেন, চিবাবেন বা ভেতরের গুঁড়া বের করবেন না, কারণ এতে শোষণ অনেক বেড়ে যায়। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না, এতে স্ট্রোক বা রক্তজমাটের ঝুঁকি বাড়ে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন, হেপারিন, রিভারক্সাবান বা অ্যাপিক্সাবানের মতো অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ একসাথে ব্যবহার করা যাবে না, শুধু ডাক্তারের নির্দেশে ঔষধ বদলানোর সময় ছাড়া।
- অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, এনএসএআইডি (যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) ও এসএসআরআই বিষণ্নতার ঔষধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, সাইক্লোস্পোরিন ও ড্রোনেডারোনের সাথে খাওয়া যাবে না; ভেরাপামিল, অ্যামিওডারোন ও কুইনিডিনের সাথে মাত্রা বদলানো লাগতে পারে।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমায়, এগুলো এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- গুরুতর কিডনি রোগ থাকলে।
- চলমান উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণ, বা সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা সক্রিয় পাকস্থলীর আলসারের মতো বেশি ঝুঁকির অবস্থা।
- যান্ত্রিক (কৃত্রিম) হার্ট ভালভ থাকলে।
- গুরুতর লিভার রোগ।
- উপরে উল্লেখিত নিষিদ্ধ ঔষধগুলো চলাকালে।
- ডাবিগ্যাট্রানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তক্ষরণ: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি দিয়ে রক্ত, সহজে কালশিটে দাগ, প্রস্রাব বা মলে রক্ত এবং মাসিকে বেশি রক্তপাত। বদহজম, বুক জ্বালা, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবও সাধারণ; খাবারের সাথে খেলে আরাম হতে পারে।
অনেক বা নিয়ন্ত্রণহীন রক্তক্ষরণ, রক্ত বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা কথা বলতে অসুবিধা হলে, অথবা এই ঔষধ খাওয়ার সময় পড়ে গেলে বা মাথায় আঘাত পেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্পষ্ট প্রয়োজন ছাড়া গর্ভাবস্থায় ডাবিগ্যাট্রান ব্যবহার করা উচিত নয়; গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় গর্ভধারণ এড়ানো উচিত। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতা
- শুরুর আগে এবং অন্তত বছরে একবার, বয়স্কদের আরও ঘন ঘন, কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উচিত।
- যেকোনো অস্ত্রোপচার বা প্রসিডিউরের আগে ডাক্তার ও দন্ত চিকিৎসককে জানান যে আপনি রক্ত পাতলা করার ঔষধ খাচ্ছেন; আগে থেকে বন্ধ করতে হতে পারে।
- জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে এর প্রভাব উল্টানোর নির্দিষ্ট ঔষধ আছে।
- আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য ক্যাপসুল মূল প্যাকেই রাখুন।
- রক্তক্ষরণ কমাতে নরম টুথবারাশ ও ইলেকট্রিক রেজর ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে গুরুতর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে নির্দিষ্ট প্রতিষেধক ও রক্তক্ষরণ থামানোর অন্য চিকিৎসা দেওয়া যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট; সরাসরি থ্রম্বিন ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য মূল প্যাকে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।