ব্যবহার
ডার্বেপোয়েটিন আলফা নিচের ক্ষেত্রে এনিমিয়া (লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়া) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়:
- দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) কিডনি রোগে আক্রান্ত বড় ও শিশু, ডায়ালাইসিস চলুক বা না চলুক;
- কিছু ক্যান্সারে (মায়েলয়েড ধরনের রক্তের ক্যান্সার নয়) আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁদের এনিমিয়া কেমোথেরাপির কারণে হয়েছে।
এটি রক্ত নেওয়ার (ট্রান্সফিউশন) প্রয়োজন কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
সুস্থ কিডনি এরিথ্রোপোয়েটিন নামের একটি হরমোন তৈরি করে, যা অস্থিমজ্জাকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির সংকেত দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি এটি কম তৈরি করে, আর কেমোথেরাপিও লোহিত কণিকা তৈরি ধীর করে দিতে পারে। ডার্বেপোয়েটিন আলফা এই হরমোনের গবেষণাগারে তৈরি দীর্ঘক্ষণ কার্যকর রূপ। এটি অস্থিমজ্জাকে বেশি লোহিত কণিকা তৈরিতে উদ্দীপিত করে, ফলে হিমোগ্লোবিন বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডার্বেপোয়েটিন আলফা একটি ইনজেকশন, যা সাধারণত চিকিৎসক বা নার্স চামড়ার নিচে বা শিরায় দেন। কিছু রোগীকে বাড়িতে নিজে ইনজেকশন নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মাত্রা শরীরের ওজন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো নির্ধারিত হয়। সাধারণত সপ্তাহে একবার, ২ সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার দেওয়া হয়। হিমোগ্লোবিন নিরাপদ লক্ষ্যমাত্রায় রাখতে চিকিৎসক মাত্রা সমন্বয় করেন এবং খুব দ্রুত বা খুব বেশি বাড়ানো এড়িয়ে চলেন।
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়, এবং প্রায়ই আয়রন সাপ্লিমেন্ট লাগে। সিরিঞ্জ ঝাঁকাবেন না। কোনো ডোজ বাদ পড়লে চিকিৎসক বা নার্সের পরামর্শ নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো ঔষধ-প্রতিক্রিয়া জানা নেই। হিমোগ্লোবিন বাড়লে সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের রক্তের মাত্রা বদলাতে পারে, তাই চিকিৎসক এগুলো আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করতে পারেন। আপনি যেসব ঔষধ খান, সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
নিচের ক্ষেত্রে ডার্বেপোয়েটিন আলফা ব্যবহার করা যাবে না:
- ডার্বেপোয়েটিন আলফা, এরিথ্রোপোয়েটিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি;
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ;
- আগে কোনো এরিথ্রোপোয়েটিন জাতীয় ঔষধের পর পিউর রেড সেল অ্যাপ্লাসিয়া (অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরি বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়েছিল।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: উচ্চ রক্তচাপ, ফোলা, মাথাব্যথা, র্যাশ, এবং ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা কালশিটে দাগ।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন;
- হঠাৎ মুখ, হাত বা পা দুর্বল বা অবশ হওয়া, বিভ্রান্তি, কথা বলতে কষ্ট বা তীব্র মাথাব্যথা (স্ট্রোকের লক্ষণ);
- এক পায়ে ব্যথা, গরম ভাব বা ফোলা, বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট (রক্ত জমাট হতে পারে), অথবা ডায়ালাইসিসের সংযোগে রক্ত জমাট;
- খিঁচুনি;
- ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ ছড়িয়ে পড়া র্যাশ;
- চিকিৎসার মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ভাব বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া (পিউর রেড সেল অ্যাপ্লাসিয়া হতে পারে);
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো বা চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।
সতর্কতা
- হিমোগ্লোবিন খুব বেশি রাখলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, রক্ত জমাট ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। ট্রান্সফিউশন এড়াতে যতটুকু দরকার, চিকিৎসক সবচেয়ে কম সেই মাত্রাই দেন।
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঔষধ কিছু ক্ষেত্রে আয়ু কমাতে বা টিউমারের বৃদ্ধি দ্রুত করতে পারে; তাই শুধু কেমোথেরাপিজনিত এনিমিয়ায় ব্যবহার করা হয় এবং কেমোথেরাপি শেষ হলে বন্ধ করা হয়।
- মৃগী, লিভারের রোগ, সিকেল সেল এনিমিয়া, অথবা আগে স্ট্রোক বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- হিমোগ্লোবিন ও আয়রনের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি দেওয়া হলে হিমোগ্লোবিন খুব বেড়ে যেতে পারে এবং বিপজ্জনক উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসক চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ করতে এবং প্রয়োজনে কিছু রক্ত বের করে নিতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্ত তৈরিতে সহায়ক ঔষধ; এরিথ্রোপোয়েসিস-স্টিমুলেটিং এজেন্ট (ESA)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাট বাঁধাবেন না এবং ঝাঁকাবেন না। আলো থেকে রক্ষার জন্য বাইরের বাক্সে রাখুন। প্যাকেটের নির্দেশনায় অনুমতি থাকলে কেবল লেখা সময় পর্যন্ত ঘরের তাপমাত্রায় (২৫°C এর নিচে) রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।