ব্যবহার
ডারিফেনাসিন প্রাপ্তবয়স্কদের ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এই সমস্যায় হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র বেগ, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা (আর্জ ইনকন্টিনেন্স) দেখা দেয়।
কীভাবে কাজ করে
ডারিফেনাসিন একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক ঔষধ। এটি মূত্রথলির পেশির M3 রিসেপ্টর আটকে দিয়ে পেশিকে শিথিল করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংকোচন কমায়। ফলে মূত্রথলি বেশি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে এবং বেগ ও প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়া কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে একবার ৭.৫ mg। দুই সপ্তাহ পর প্রয়োজনে চিকিৎসক দিনে একবার ১৫ mg করতে পারেন। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট আস্ত পানি দিয়ে গিলে ফেলুন, খাবারের সাথে বা ছাড়া; চিবাবেন না, ভাঙবেন না বা গুঁড়া করবেন না। মাঝারি লিভারের সমস্যা থাকলে বা কিছু প্রতিক্রিয়াকারী ঔষধ খেলে দিনে ৭.৫ mg এর বেশি খাওয়া উচিত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন বা রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর: ডারিফেনাসিনের মাত্রা বাড়ায়; সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় বা ৭.৫ mg এ সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
- ইরিথ্রোমাইসিন, ফ্লুকোনাজল, ডিলটিয়াজেম বা ভেরাপামিল: মাত্রা ৭.৫ mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- ফ্লেকাইনাইড, থিওরিডাজিন বা ইমিপ্রামিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট: এদের মাত্রা বাড়তে পারে।
- অন্যান্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ: মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঝাপসা দেখা বাড়ে।
কারা খাবেন না
- ডারিফেনাসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- প্রস্রাব আটকে থাকলে (মূত্রথলি খালি করতে না পারলে)।
- খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে, বা তীব্র আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলনের মতো অন্ত্রের গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- অনিয়ন্ত্রিত ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস।
- লিভারের গুরুতর সমস্যা।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য। এছাড়া মাথাব্যথা, বদহজম, বমিভাব, চোখ শুকানো, ঝাপসা দেখা ও পেটে ব্যথা হতে পারে। ঘাম কমে যেতে পারে, ফলে গরম আবহাওয়ায় শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রস্রাব একেবারে না হওয়া, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে ব্যথা, ঝাপসা দেখার সাথে চোখে ব্যথা, বিভ্রান্তি, অথবা মুখ, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এটি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় না। ঔষধটি বুকের দুধে যেতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
- প্রোস্টেট বড় হওয়া, অন্ত্র বা পাকস্থলীর সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্লুকোমা, লিভারের সমস্যা বা হৃদছন্দের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন এবং গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দেখা হতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, বুক ধড়ফড়, প্রস্রাবে কষ্ট, মুখ লাল হওয়া ও বিভ্রান্তি হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রথলির খিঁচুনিরোধী, অ্যান্টিমাসকারিনিক (M3 সিলেক্টিভ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।