ব্যবহার
ডিফেরিপ্রোন একটি আয়রন কিলেটর, অর্থাৎ এমন ঔষধ যা শরীরের অতিরিক্ত আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে তা বের করে দেয়। থ্যালাসেমিয়া মেজরের মতো যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের শরীরে আয়রন জমে যাওয়ার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়, বিশেষ করে যখন অন্য আয়রন কমানোর ঔষধ উপযুক্ত নয় বা যথেষ্ট নয়।
কীভাবে কাজ করে
বারবার রক্ত নিলে শরীরে এমন আয়রন জমে যা শরীর নিজে বের করতে পারে না, এবং এই আয়রন হৃদপিণ্ড, লিভার ও হরমোন গ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে। ডিফেরিপ্রোন হৃদপিণ্ডসহ রক্ত ও টিস্যুর আয়রনের সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে একটি যৌগ তৈরি করে, যা মূলত প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডিফেরিপ্রোন মুখে খেতে হয়, সাধারণত দিনে ৩ বার। শরীরের ওজন ও আয়রনের মাত্রা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন, তাই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিকঠাক সেবন করুন। খাবারের সাথে খেলে বমিভাব কম হতে পারে। ঔষধ চলাকালীন নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- শ্বেত রক্তকণিকা কমাতে পারে এমন ঔষধ, যেমন ক্লোজাপিন, কিছু ক্যান্সারের ঔষধ বা মেটামিজল: এড়িয়ে চলুন, কারণ এগ্রানুলোসাইটোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
- অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন বা জিংকযুক্ত অ্যান্টাসিড বা সাপ্লিমেন্ট: অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করুন।
- ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট: কেবল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিন।
কারা খাবেন না
- ডিফেরিপ্রোনে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে এগ্রানুলোসাইটোসিস বা বারবার নিউট্রোপেনিয়া (শ্বেত রক্তকণিকা খুব কমে যাওয়া) হয়ে থাকলে।
- নিউট্রোপেনিয়া ঘটাতে পারে এমন অন্য ঔষধ সেবনকালে।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, পেটে ব্যথা, ক্ষুধা বাড়া, গিঠায় ব্যথা ও ফোলা, লিভার টেস্ট বেড়ে যাওয়া, জিংক কমে যাওয়া এবং প্রস্রাবের রং লালচে-বাদামি হওয়া (এটি ক্ষতিকর নয়)। সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি হলো হঠাৎ শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া (নিউট্রোপেনিয়া বা এগ্রানুলোসাইটোসিস), যাতে শরীর সংক্রমণের সাথে লড়তে পারে না।
জ্বর, গলা ব্যথা, মুখে ঘা, ফ্লুর মতো লক্ষণ বা সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত ঔষধ বন্ধ রাখুন। তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডিফেরিপ্রোন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ঔষধ চলাকালীন বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় প্রতি সপ্তাহে, বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো, শ্বেত রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হয়।
- লিভার টেস্ট, জিংক ও আয়রন (ফেরিটিন) এর মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- কিডনি বা লিভারের সমস্যা বা HIV সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে স্নায়ু ও মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা গেছে, যেমন টলমল হাঁটা, অস্বাভাবিক নড়াচড়া ও দৃষ্টির পরিবর্তন। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন কিলেটিং এজেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।