বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Delafloxacin

  • 6 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 4 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ডেলাফ্লক্সাসিন একটি ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক। প্রাপ্তবয়স্কদের ত্বক ও ত্বকের নিচের গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ (যেমন সেলুলাইটিস, ক্ষতের সংক্রমণ ও ফোড়া), কিছু MRSA সংক্রমণসহ, এবং হাসপাতালের বাইরে থেকে হওয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত রোগে এটি কাজ করে না।

কীভাবে কাজ করে

ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ কপি ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি এনজাইম, ডিএনএ জাইরেজ ও টোপোআইসোমারেজ IV, এটি বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং মারা যায়। স্ট্যাফাইলোকক্কাসসহ অনেক গ্রাম-পজিটিভ ও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি কার্যকর।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ট্যাবলেট: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা প্রতি ১২ ঘণ্টায় ৪৫০ mg, খাবারের আগে বা পরে, চিকিৎসক যত দিন বলেন (প্রায়ই ৫ থেকে ১৪ দিন)। ইনজেকশন হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স ধীরে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে দেন, পরে ট্যাবলেটে বদলানো হতে পারে। গুরুতর কিডনি রোগে মাত্রা বদলানো হয়। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ম্যাগনেসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড, সুক্রালফেট এবং আয়রন বা জিংকযুক্ত সাপ্লিমেন্ট: শোষণ কমিয়ে দেয়। এগুলোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৬ ঘণ্টা পরে ডেলাফ্লক্সাসিন খান।
  • কর্টিকোস্টেরয়েড: বিশেষ করে বয়স্কদের টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
  • ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার মতো ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা খুব কমে বা বেড়ে যেতে পারে।
  • NSAID: খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • ওয়ারফারিন: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, INR পরীক্ষা করা উচিত।

কারা খাবেন না

  • ডেলাফ্লক্সাসিন বা অন্য যেকোনো ফ্লুরোকুইনোলোন (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন) এ অ্যালার্জি থাকলে।
  • মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস রোগীদের সাধারণত এড়ানো উচিত, কারণ এটি পেশির দুর্বলতা বাড়াতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণত বমিভাব, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, লিভার এনজাইম বাড়া ও বমি হতে পারে। অন্যান্য ফ্লুরোকুইনোলোনের মতো কদাচিৎ টেন্ডনে প্রদাহ বা ছিঁড়ে যাওয়া, স্নায়ুর ক্ষতিতে ঝিনঝিন বা জ্বালা, মেজাজ পরিবর্তন, বিভ্রান্তি, ঘুমের সমস্যা, রক্তে শর্করা কমা বা বাড়া এবং ক্লস্ট্রিডিওয়েডিস ডিফিসিল সংক্রমণজনিত তীব্র ডায়রিয়া হতে পারে।

টেন্ডনে (প্রায়ই গোড়ালিতে) হঠাৎ ব্যথা, ফোলা বা ছিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি; হাত-পায়ে অবশভাব বা জ্বালা; পেশি দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট; তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া; মারাত্মক র‍্যাশ বা মুখ-গলা ফোলা; বুক, পিঠ বা পেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা; অজ্ঞান হওয়া; অথবা বিভ্রান্তি ও হ্যালুসিনেশন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য কম। চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, চিকিৎসক চিকিৎসার সময় ও কিছুদিন পর পর্যন্ত দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে বলতে পারেন।

সতর্কতা

ফ্লুরোকুইনোলোন টেন্ডন, পেশি, জোড়া, স্নায়ু ও মস্তিষ্কে অক্ষম করে দেওয়ার মতো এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত না হলে সাধারণত এটি দেওয়া হয়। বয়স ৬০ এর বেশি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কিডনি রোগ, মৃগী, ডায়াবেটিস, মহাধমনীর অ্যানিউরিজম বা আগে টেন্ডনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। টেন্ডনে ব্যথা বা স্নায়ুর উপসর্গের প্রথম লক্ষণেই বন্ধ করে চিকিৎসককে জানান।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে বমিভাব, বমি, মাথা ঘোরা বা আরও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ব্যাকটেরিয়ানাশক, ফ্লুরোকুইনোলোন (কুইনোলোন)।

সংরক্ষণ

ট্যাবলেট: ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, ইনফিউশন হাসপাতালের কর্মীরা তৈরি করেন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Delafloxacin এর ব্র্যান্ড

6 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।