ব্যবহার
ডেসফেরিঅক্সামিন (ডেফেরক্সামিন নামেও পরিচিত) শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বের করতে ব্যবহার হয়। প্রধান ব্যবহার: থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে যাঁদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয়, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আয়রন জমা, এবং তীব্র আয়রন বিষক্রিয়া, যেমন শিশু আয়রন ট্যাবলেট গিলে ফেললে। ডায়ালাইসিসের কিছু রোগীর অ্যালুমিনিয়াম জমাতেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডেসফেরিঅক্সামিন একটি কিলেটিং এজেন্ট। এটি রক্ত ও টিস্যুর মুক্ত আয়রন (এবং অ্যালুমিনিয়াম) এর সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে একটি স্থিতিশীল যৌগ তৈরি করে, যা প্রস্রাব ও পিত্তের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত আয়রন সরিয়ে এটি হৃৎপিণ্ড, লিভার ও হরমোন গ্রন্থিকে আয়রনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, সাধারণত ছোট পাম্পের সাহায্যে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে চামড়ার নিচে ধীরে ধীরে, অথবা শিরা বা মাংসপেশিতে। ডাক্তার বা নার্স চিকিৎসা শুরু করেন; থ্যালাসেমিয়ার কিছু রোগীকে বাড়িতে নিজে দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাত্রা ওজন, আয়রনের মাত্রা ও ব্যবহারের কারণের ওপর নির্ভর করে এবং সবসময় ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (যেমন সিরাম ফেরিটিন) দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) আয়রন বের হওয়া বাড়াতে পারে, তবে তীব্র আয়রন জমায় হৃৎপিণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে; শুধু ডাক্তারের পরামর্শে এবং এক মাস নিয়মিত চিকিৎসার পর শুরু করুন।
- প্রোক্লোরপেরাজিনের সাথে নিলে সাময়িক জ্ঞান হারানোর ঘটনা ঘটতে পারে।
- এটি গ্যালিয়াম স্ক্যানের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং আয়রন বা অ্যালুমিনিয়াম পরীক্ষার সময় ডোজ অনুযায়ী ঠিক করতে হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ডেসফেরিঅক্সামিনে জানা অ্যালার্জি, যদি না ডাক্তার ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা অপরিহার্য মনে করেন।
- ডায়ালাইসিস ছাড়া গুরুতর কিডনি রোগ, কারণ আয়রন যৌগটি কিডনি দিয়ে বের হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ইনফিউশনের জায়গায় ব্যথা, লাল ভাব, ফোলা, চুলকানি বা গিটা, অস্থিসন্ধি বা পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, জ্বর এবং লালচে-বাদামি প্রস্রাব (এটি প্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর নয়)। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে শ্রবণশক্তি কমা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ঝাপসা বা কম দেখা, শিশুদের বৃদ্ধিতে সমস্যা এবং কিছু সংক্রমণ (যেমন ইয়ারসিনিয়া অন্ত্রের সংক্রমণ বা মিউকোরমাইকোসিস) হতে পারে। শিরায় দ্রুত দিলে মুখ লাল হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও শক হতে পারে।
পেটব্যথা বা ডায়রিয়াসহ উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফোলা, তীব্র অ্যালার্জি, হঠাৎ দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তির পরিবর্তন, বা প্রস্রাব খুব কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, এবং পরে শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করা হয়, যেমন গুরুতর আয়রন বিষক্রিয়ায়। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- শুরুর আগে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সময় নিয়মিত চোখ ও কানের পরীক্ষা করান।
- শিশুদের উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত মাপা দরকার।
- জ্বর, পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান, চিকিৎসা বন্ধ করতে হতে পারে।
- বিশেষ করে বেশি মাত্রায় কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- মাথা ঘোরা বা দৃষ্টির সমস্যা হতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভুলবশত বেশি মাত্রা বা দ্রুত ইনফিউশনে রক্তচাপ কমে যাওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ঝাপসা দেখা, অস্থিরতা, কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ইনফিউশন বন্ধ করে হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়; ডায়ালাইসিসে এটি সরানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন কিলেটিং এজেন্ট (আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম জমার প্রতিষেধক)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ২৫°C-এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তৈরি করা দ্রবণ সঙ্গে সঙ্গে বা প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন; তৈরি করা দ্রবণ ফ্রিজে রাখবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।