বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Desmopressin Acetate

  • 3 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 3 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ডেসমোপ্রেসিন শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন ভ্যাসোপ্রেসিনের কৃত্রিম রূপ। এটি সেন্ট্রাল ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (এই হরমোন কম তৈরি হওয়ায় অনেক পাতলা প্রস্রাব ও তীব্র তৃষ্ণা), ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের রাতে বিছানায় প্রস্রাব করা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব (নকটুরিয়া) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ইনজেকশন ও নাকের স্প্রে হালকা হিমোফিলিয়া এ ও ভন উইলেব্র্যান্ড রোগের মতো কিছু রক্তক্ষরণজনিত রোগেও ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে কাজ করে

ডেসমোপ্রেসিন কিডনিতে কাজ করে শরীরে বেশি পানি ফিরিয়ে দেয়, ফলে প্রস্রাব কম তৈরি হয় ও ঘন হয়। ইনজেকশনে বেশি মাত্রায় এটি রক্তে জমাট বাঁধার উপাদান (ফ্যাক্টর VIII ও ভন উইলেব্র্যান্ড ফ্যাক্টর) মুক্ত করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা রোগ, পণ্যের ধরন (ট্যাবলেট, জিহ্বার নিচে গলে যাওয়া মেল্ট, নাকের স্প্রে বা ইনজেকশন) ও ব্যক্তিভেদে আলাদা, তাই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিকঠাক সেবন করুন। বিছানায় প্রস্রাব ও নকটুরিয়ায় এটি ঘুমানোর আগে নেওয়া হয়। রাতের ডোজের ১ ঘণ্টা আগে থেকে ৮ ঘণ্টা পর পর্যন্ত শুধু তৃষ্ণা মেটানোর মতো পানি পান করুন। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স দেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, SSRI, কারবামাজেপিন, ক্লোরপ্রোমাজিন ও NSAID এর মতো পানি আটকানো বা সোডিয়াম কমানো ঔষধ: হাইপোন্যাট্রেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • লোপারামাইড: ডেসমোপ্রেসিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • মূত্রবর্ধক: সাধারণত একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষ করে নকটুরিয়ায়।

কারা খাবেন না

  • ডেসমোপ্রেসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
  • অভ্যাসগত বা মানসিক কারণে অতিরিক্ত পানি পান করলে (পলিডিপসিয়া)।
  • রক্তে সোডিয়াম কম (হাইপোন্যাট্রেমিয়া) থাকলে বা আগে হয়ে থাকলে, অথবা SIADH থাকলে।
  • হার্ট ফেইলিওর বা মূত্রবর্ধক লাগে এমন অন্য অবস্থায়।
  • কিডনির মাঝারি থেকে গুরুতর সমস্যা।
  • ভন উইলেব্র্যান্ড রোগ টাইপ 2B (রক্তক্ষরণের চিকিৎসার ক্ষেত্রে)।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটে ব্যথা, মুখ শুকানো এবং নাকের স্প্রেতে নাক বন্ধ হওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো শরীরে পানি জমে রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া (হাইপোন্যাট্রেমিয়া), যা বয়স্কদের এবং বেশি পানি পান করলে বেশি হয়।

তীব্র বা না সারা মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক তন্দ্রা, বমি, দ্রুত ওজন বাড়া, পেশিতে টান বা খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো বিপজ্জনকভাবে সোডিয়াম কমার লক্ষণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বুকের দুধে খুব অল্প যায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে ব্যবহার করা যায়।

সতর্কতা

  • পরামর্শ ছাড়া খেলাধুলার সময় বা গরম আবহাওয়াসহ কখনোই অনেক বেশি পানি পান করবেন না।
  • বমি, ডায়রিয়া বা জ্বরের সময় সাময়িক বন্ধ রেখে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
  • বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের এবং শুরু বা মাত্রা বদলের সময় রক্তে সোডিয়াম পরীক্ষা করা উচিত।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

অতিরিক্ত সেবনে শরীরে পানি জমে সোডিয়াম কমে যায়, ফলে মাথাব্যথা, বমিভাব, বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন অ্যানালগ (ভ্যাসোপ্রেসিন অ্যানালগ)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কিছু নাকের স্প্রে ও ইনজেকশন ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখতে হয়; প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Desmopressin Acetate এর ব্র্যান্ড

3 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।