ব্যবহার
ডিউটেট্রাবেনাজিন একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ঔষধ, যা অনিচ্ছাকৃত, ঝাঁকুনিমতো বা মোচড়ানো নড়াচড়া কমাতে ব্যবহৃত হয়। হান্টিংটনস রোগের কোরিয়া (হঠাৎ নাচের মতো নড়াচড়া) এবং টার্ডিভ ডিসকিনেসিয়ায়, অর্থাৎ কিছু মানসিক রোগের বা বমিরোধী ঔষধ দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে মুখ, জিহ্বা বা হাত-পায়ের বারবার অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়ায় এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডিউটেট্রাবেনাজিন VMAT2 নামের একটি পরিবহনকারী আটকে দেয়, যা স্নায়ুকোষের ভেতরে ডোপামিনের মতো রাসায়নিক জমা রাখার কোষে ভরে। ডোপামিন কম নিঃসৃত হলে মস্তিষ্কের অতিসক্রিয় নড়াচড়ার সংকেত শান্ত হয়। এটি টেট্রাবেনাজিনের একটি পরিমার্জিত রূপ, যা ধীরে ভাঙে, তাই কম বার খেলেই চলে এবং রক্তে মাত্রা বেশি স্থির থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ ঠিক যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে খান। চিকিৎসক কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে সাধারণত সাপ্তাহিক ব্যবধানে ধীরে ধীরে বাড়ান, যতক্ষণ না নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে আসে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহনীয় থাকে। ট্যাবলেট খাবারের সাথে খেতে হয় এবং ভাঙা বা চিবানো ছাড়া আস্ত গিলে ফেলতে হয়। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে মাত্রা বদলাবেন না বা হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- টেট্রাবেনাজিন, ভ্যালবেনাজিন বা রিসারপিনের সাথে খাবেন না।
- সেলেজিলিন বা ফেনেলজিনের মতো MAO ইনহিবিটরের সাথে, বা সেগুলো বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না।
- প্যারোক্সেটিন, ফ্লুওক্সেটিন, বুপ্রোপিয়ন বা কুইনিডিনের মতো শক্তিশালী CYP2D6 ইনহিবিটর এর মাত্রা বাড়ায়; চিকিৎসক মাত্রা সীমিত করবেন।
- ECG-তে QT ব্যবধান বাড়ায় এমন ঔষধ (যেমন কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, মক্সিফ্লক্সাসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যামিওডারোন) হৃৎছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যান্টিসাইকোটিক ও অন্য ডোপামিন ব্লকার শক্ত ভাব ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে; অ্যালকোহল ও ঘুমের ঔষধ ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- হান্টিংটনস রোগের সাথে চিকিৎসাহীন বা অপর্যাপ্ত চিকিৎসিত বিষণ্ণতা থাকলে, বা আত্মহত্যার সক্রিয় ঝুঁকি থাকলে।
- লিভারের কার্যক্ষমতা কম থাকলে।
- উপরে উল্লেখিত টেট্রাবেনাজিন, ভ্যালবেনাজিন, রিসারপিন বা MAO ইনহিবিটর খেলে।
- ডিউটেট্রাবেনাজিনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মুখ শুকানো, পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা ও মন খারাপ লাগা রয়েছে। কারও কারও পারকিনসনের মতো শক্ত ভাব, ধীর নড়াচড়া বা কাঁপুনি হতে পারে।
আত্মহত্যা বা নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা এলে, মনের অবস্থার স্পষ্ট অবনতি হলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে বা হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হলে, অথবা তীব্র পেশি শক্ত হওয়া ও বিভ্রান্তিসহ উচ্চ জ্বর হলে (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম নামের বিরল প্রতিক্রিয়া) দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য কম। চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- হান্টিংটনস রোগে এটি বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যার চিন্তা তৈরি বা বাড়াতে পারে; রোগী ও পরিবার মনের পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন।
- হৃৎছন্দের সমস্যা থাকলে বা QT ব্যবধানে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ খেলে ECG লাগতে পারে।
- ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; প্রভাব না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- মাত্রা ঠিক করতে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক নড়াচড়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, ঘাম, বমি ও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
VMAT2 ইনহিবিটর (নড়াচড়ার রোগের চিকিৎসা)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।