ব্যবহার
ডেক্সামেথাসন সোডিয়াম ফসফেট একটি শক্তিশালী কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা ইনজেকশন এবং চোখ বা কানের ড্রপ হিসেবে পাওয়া যায়, এককভাবে বা অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে মিলিয়ে। ইনজেকশন ব্যবহার হয় তীব্র এলার্জি, হাঁপানির তীব্র টান, মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া, জোড়া, চামড়া বা অন্ত্রের তীব্র প্রদাহ, শিশুদের ক্রুপ এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় বমি বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধে। অকাল প্রসবের সম্ভাবনায় শিশুর ফুসফুস পরিণত করতে, এবং গুরুতর কোভিড-১৯ বা অন্য জটিল রোগেও ডাক্তার এটি দেন। ড্রপ চোখের প্রদাহে ব্যবহার হয়, যেমন চোখের অপারেশনের পরে বা এলার্জিজনিত চোখের রোগে।
কীভাবে কাজ করে
এটি শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের মতো, তবে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে কাজ করে। ফোলা, লালভাব, ব্যথা ও এলার্জির রাসায়নিক সংকেত বন্ধ করে দেয় এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স শিরায় বা মাংসে দেন। মাত্রা রোগ, রোগীর ওজন ও সাড়া অনুযায়ী ডাক্তার ঠিক করেন; পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। চোখের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা দিনে ৪ থেকে ৬ বার, চোখ ভালো হলে কমিয়ে আনতে হয়, বা চোখের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী; আলাদা চোখের ড্রপের মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন। কানের ড্রপ: পরামর্শ অনুযায়ী। বেশি মাত্রা বা দীর্ঘ কোর্স হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ব্যথানাশক প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID) বা অ্যাসপিরিনের সাথে খেলে পাকস্থলীতে ঘা ও রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এটি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধ বদলাতে হতে পারে। প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডাইইউরেটিক) বা অ্যামফোটেরিসিন বি এর সাথে পটাশিয়াম অনেক কমে যেতে পারে। রিফামপিসিন, ফেনিটোইন ও কার্বামাজেপিন এর কাজ কমায়; কিটোকোনাজল, রিটোনাভির ও ক্লারিথ্রোমাইসিন বাড়ায়। এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলে দিতে পারে। বেশি মাত্রায় চিকিৎসার সময় জীবিত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে।
কারা খাবেন না
- চিকিৎসা না করা গুরুতর সংক্রমণ, বিশেষ করে শরীরের ছত্রাক সংক্রমণ থাকলে।
- বেশি মাত্রায় চিকিৎসার সময় সাম্প্রতিক বা পরিকল্পিত জীবিত টিকা।
- চোখের ড্রপ: ভাইরাসজনিত (যেমন হারপিস), ছত্রাকজনিত বা যক্ষ্মাজনিত চোখের সংক্রমণ, বা চিকিৎসা না করা পুঁজযুক্ত চোখের সংক্রমণ।
- ডেক্সামেথাসন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প দিনের কোর্সে: রক্তে শর্করা বাড়া, খিদে বাড়া, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন, বদহজম, এবং দ্রুত ইনজেকশন দিলে কুঁচকির আশপাশে অল্পক্ষণের জ্বালা বা চুলকানি। দীর্ঘ ব্যবহারে: ওজন বাড়া, মুখ গোলগাল হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হাড় পাতলা হওয়া, পেশি দুর্বলতা, সহজে কালশিটে পড়া, সংক্রমণ বাড়া ও ক্ষত দেরিতে সারা। চোখের ড্রপে: চিনচিন ভাব, ঝাপসা দেখা, আর দীর্ঘ ব্যবহারে চোখের চাপ বাড়া ও ছানি। সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর, কাঁপুনি), কালো পায়খানা বা রক্তবমি, পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তে শর্করা অনেক বেড়ে যাওয়া (খুব পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব), মেজাজের তীব্র পরিবর্তন বা বিভ্রান্তি, চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি কমে যাওয়া, বা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার যখন মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি তখন গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়, এমনকি গর্ভের শিশুর ফুসফুসের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেও দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; অল্প দিনের কোর্স সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে সিদ্ধান্ত ডাক্তার নেবেন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর, পাকস্থলীর ঘা, হাড় পাতলা হওয়া, গ্লুকোমা, মৃগী, আগে যক্ষ্মা হয়ে থাকা, লিভার বা কিডনির রোগ, অথবা বিষণ্ণতা বা অন্য মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। জলবসন্ত, হারপিস জোস্টার বা হামে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, সংস্পর্শে এলে ডাক্তার দেখান। চোখের ড্রপ শুধু নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করুন, এবং ১০ দিনের বেশি ব্যবহার করলে চোখের চাপ পরীক্ষা করান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি মাত্রা নিলে গুরুতর ক্ষতি কদাচিৎ হয়। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় নিলে দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন; পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করবেন না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (গ্লুকোকর্টিকয়েড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখ বা কানের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পরে ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।