ব্যবহার
ডেক্সল্যানসোপ্রাজল পাকস্থলীর এসিড কমায়। এসিডের কারণে খাদ্যনালীর ভেতরের আবরণে ক্ষত (ইরোসিভ ইসোফেগাইটিস) সারাতে, সেরে ওঠার পর তা বজায় রাখতে ও বুক জ্বালা কমাতে, এবং খাদ্যনালীতে ক্ষত ছাড়া গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের (জিইআরডি) বুক জ্বালায় এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর: পাকস্থলীর আবরণে যে পাম্প এসিড ছাড়ে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়। এর বিশেষ ক্যাপসুল দুই ধাপে ঔষধ ছাড়ে, ফলে দিনের বেশি সময় এসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: খাদ্যনালীর ক্ষত সারাতে সাধারণত দিনে ১ বার ৬০ mg, সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ; সেরে ওঠা বজায় রাখতে দিনে ১ বার ৩০ mg; জিইআরডির বুক জ্বালায় দিনে ১ বার ৩০ mg, ৪ সপ্তাহ। অথবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়, ক্যাপসুল আস্ত গিলে খান। গিলতে কষ্ট হলে ক্যাপসুল খুলে দানাগুলো এক চামচ আপেল সসে ছিটিয়ে না চিবিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন। বিশেষজ্ঞ না দিলে শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিলপিভিরিনের সাথে খাবেন না। এটি অ্যাটাজানাভির, নেলফিনাভির, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, আয়রন ও মাইকোফেনোলেটের শোষণ কমাতে পারে, এবং মেথোট্রেক্সেট (বেশি মাত্রায়), ট্যাক্রোলিমাস ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলাতে পারে, তাই রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে। আপনি যত ঔষধ খান সবগুলোর কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
ডেক্সল্যানসোপ্রাজল, ল্যানসোপ্রাজল বা অন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরে এলার্জি থাকলে, এবং রিলপিভিরিনযুক্ত ঔষধ খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, গ্যাস ও মাথাব্যথা। দীর্ঘদিন খেলে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ কমে যেতে পারে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে। দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র বা পানির মতো পাতলা পায়খানা না থামে, রক্তবমি বা কালো পায়খানা হয়, গিলতে কষ্ট বা অকারণে ওজন কমে, মাংসপেশিতে টান, কাঁপুনি বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয় (ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া), প্রস্রাব অনেক কমে যায় (কিডনির সমস্যা), রোদে থাকা ত্বকে র্যাশসহ গিঁটে ব্যথা হয়, অথবা গুরুতর এলার্জি বা ফোসকাসহ ত্বকের প্রতিক্রিয়া হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখে এমন সর্বনিম্ন মাত্রা যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন। মাঝারি লিভারের রোগে কম মাত্রা লাগতে পারে; গুরুতর লিভারের রোগে এটি সুপারিশ করা হয় না। ওজন কমা, গিলতে কষ্ট, রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো সতর্কসংকেত থাকলে শুরু করার আগে ডাক্তার দেখান, কারণ এগুলো আগে পরীক্ষা করা দরকার। পাকস্থলীর কোনো পরীক্ষার আগে ডাক্তারকে জানান যে আপনি এটি খান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একটি বাড়তি ডোজে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।