ব্যবহার
ডেক্সট্রান ৪০ (কম আণবিক ওজনের ডেক্সট্রান) হাসপাতালে শিরায় দেওয়ার একটি তরল, যা ব্যবহার করা হয়:
- রক্তক্ষরণ, পুড়ে যাওয়া, অপারেশন বা আঘাতজনিত শকে দ্রুত রক্তের পরিমাণ পূরণ করতে, যতক্ষণ না রক্ত পাওয়া যায়
- কিছু রক্তনালি ও প্লাস্টিক সার্জারিতে ছোট রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে
- কিছু অপারেশনের পর পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে
- হৃদ্যন্ত্রের অপারেশনে হার্ট-লাং মেশিন প্রস্তুত করতে
এটি এককভাবে অথবা সোডিয়াম ক্লোরাইড (নরমাল স্যালাইন) বা গ্লুকোজের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
ডেক্সট্রান ৪০ বড় আকারের চিনির অণু দিয়ে তৈরি, যা রক্তনালির ভেতরে থেকে পানি রক্তে টেনে আনে। এতে রক্তের পরিমাণ ও রক্তচাপ বাড়ে। এটি রক্তকে কম ঘন ও কম আঠালো করে, লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকার দলা বাঁধা কমায় এবং ছোট নালিতে রক্তপ্রবাহ সহজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা নার্স এটি ধীরে ধীরে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে দেন। রোগের ধরন, ওজন, রক্তচাপ, কিডনির অবস্থা ও শরীরের তরলের ভারসাম্য দেখে চিকিৎসক পরিমাণ ও গতি ঠিক করেন। রক্তপাত ও কিডনির ঝুঁকির কারণে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মোট পরিমাণ সীমিত রাখা হয়। ইনফিউশন শুরুর আগে রক্তের গ্রুপ ও ক্রস-ম্যাচের জন্য নমুনা নেওয়া উচিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
হেপারিন, ওয়ারফারিন ও অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধের মতো রক্ত পাতলাকারী ঔষধের প্রভাব বাড়িয়ে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অ্যামিনোগ্লাইকোসাইডের মতো কিডনির ক্ষতিকর ঔষধের সাথে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। এটি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ক্রস-ম্যাচ, রক্তে শর্করা ও প্রোটিনের কিছু পরীক্ষার ফলাফলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
কারা খাবেন না
ডেক্সট্রানে অ্যালার্জি, গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, শরীরে অতিরিক্ত তরল বা ফুসফুসে পানি, প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কিডনি বিকল, গুরুতর রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা অণুচক্রিকা খুব কম থাকলে, অথবা আগে সংশোধন না করা তীব্র পানিশূন্যতায় এটি দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- অ্যালার্জি বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস, যা গুরুতর হতে পারে, বিশেষ করে প্রথম কয়েক মিনিটে
- জ্বর, র্যাশ, চুলকানি ও গিঁটে ব্যথা
- রক্তপাতের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত তরলের কারণে শ্বাসকষ্ট
- কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, বিশেষ করে পানিশূন্য রোগীদের
চুলকানি, আমবাত, বুকে চাপ, শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, মুখ ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান। এগুলোর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মায়ের গুরুতর অ্যালার্জি হলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় শুধু স্পষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম, তবে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
ইনফিউশনের সময় অ্যালার্জি, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ ও অতিরিক্ত তরলের লক্ষণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। হৃদ্রোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ ও রক্তপাতজনিত সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করা হয়। কিডনি রক্ষায় আগে অন্য তরল দিয়ে পানিশূন্যতা দূর করা হয়। দ্রবণ ঘোলা হলে বা দানা দেখা গেলে ব্যবহার করা যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি দিলে শরীরে অতিরিক্ত তরল, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। তখন ইনফিউশন বন্ধ করে চিকিৎসক সহায়ক চিকিৎসা দেন, প্রয়োজনে প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ বা ডায়ালাইসিস।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্লাজমা ভলিউম এক্সপ্যান্ডার; কলয়েড শিরায় দেওয়ার দ্রবণ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন, জমাবেন না এবং আলো থেকে দূরে রাখুন। হাসপাতালের পণ্য: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।