ব্যবহার
ডেক্সট্রোমেথরফান শুকনো, খুসখুসে কাশির (যে কাশিতে কফ ওঠে না) স্বল্পমেয়াদি উপশমে ব্যবহার হয়, যেমন সর্দি বা গলা খুসখুস করার কারণে কাশি। এটি এককভাবে বা কাশি-সর্দির মিশ্র সিরাপে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি মস্তিষ্কের কাশি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে কাজ করে কাশির তাগিদ কমায়। এটি কাশির মূল কারণ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত প্রতি ৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ mg, অথবা প্রতি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় ৩০ mg; ২৪ ঘণ্টায় ১২০ mg এর বেশি নয়। সিরাপভেদে শক্তি আলাদা, তাই লেবেল বা ডাক্তারের নির্দেশ মানুন এবং সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ ব্যবহার করুন। ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে; ৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন) খাওয়ার সময় বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না; বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, সারট্রালিন, লিনেজোলিড ও ট্রামাডলের সাথে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখুন)। ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, কুইনিডিন ও বুপ্রোপিয়ন ডেক্সট্রোমেথরফানের মাত্রাও বাড়ায়।
- মদ, ঘুমের ঔষধ ও ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন তন্দ্রা বাড়ায়।
কারা খাবেন না
ডেক্সট্রোমেথরফানে এলার্জি থাকলে, বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে, শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর অকার্যকারিতায় এবং ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্য।
মুখ বা গলা ফোলা ও শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জি হলে, অথবা বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন (অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনা), দ্রুত হৃৎস্পন্দন, তীব্র জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি বা মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন। এগুলো সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে বিষণ্নতার ঔষধের সাথে খেলে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বল্প সময়ের জন্য সাধারণ মাত্রায় শিশুর ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে। অ্যালকোহলযুক্ত বা বহু উপাদানের মিশ্র সিরাপ এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ মাত্রায় স্বল্পমেয়াদি ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়; আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- বেশি কফযুক্ত কাশি, অথবা হাঁপানি, ধূমপান বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের কাশিতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
- কাশি এক সপ্তাহের বেশি থাকলে, বারবার ফিরে এলে, অথবা সাথে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা না কমা মাথাব্যথা থাকলে ডাক্তার দেখান।
- তন্দ্রা আসতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
- বেশি মাত্রায় এর অপব্যবহার হয়; শিশু ও কিশোরদের নাগালের বাইরে রাখুন।
- একই সাথে ডেক্সট্রোমেথরফানযুক্ত দুটি ঔষধ খাচ্ছেন কিনা দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র তন্দ্রা বা উত্তেজনা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, টলমল হাঁটা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বমি ও শ্বাস ধীর হয়ে যেতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কাশি দমনকারী (অ্যান্টিটাসিভ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।