ব্যবহার
মুখে খাওয়ার ডায়াজক্সাইড শরীরে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির কারণে দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে নবজাতক ও শিশুদের জন্মগত হাইপারইনসুলিনিজম, এবং অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিকারী টিউমার (ইনসুলিনোমা), যখন অস্ত্রোপচার সম্ভব নয় বা অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় আছেন। একসময় তীব্র উচ্চ রক্তচাপে এর ইনজেকশন ব্যবহৃত হতো, এখন খুব কম ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডায়াজক্সাইড অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিকারী বিটা কোষের বিশেষ পটাসিয়াম চ্যানেল (K-ATP চ্যানেল) খুলে দেয়। এতে কোষগুলো ইনসুলিন ছাড়তে পারে না, ফলে রক্তে শর্করা বাড়ে ও স্থিতিশীল থাকে। এটি রক্তনালীর দেয়ালের পেশিকেও শিথিল করে, যাতে রক্তচাপ কমতে পারে, এবং কিডনিকে লবণ ও পানি ধরে রাখতে বাধ্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো মাত্রা। বিশেষজ্ঞ শরীরের ওজন ও রক্তের শর্করার ফলাফল অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করেন, সাধারণত দিনে ২ বা ৩ ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুরুতে ও মাত্রা বদলানোর পর ঘন ঘন রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা হয়। সাসপেনশন ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে সাথে দেওয়া সিরিঞ্জ বা চামচ দিয়ে মেপে খান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন বা বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড বা ক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইইউরেটিক এর শর্করা বাড়ানোর প্রভাব বাড়ায়; শরীরে পানি জমা কমাতে চিকিৎসকেরা প্রায়ই ইচ্ছা করে একসাথে দেন।
- অন্য রক্তচাপের ঔষধে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট: এগুলোর কাজের বিপরীতে কাজ করে।
- ফেনিটোইন: মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে।
- ওয়ারফারিন: প্রভাব বাড়তে পারে; রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।
- ক্লোরপ্রোমাজিন ও স্টেরয়েড রক্তের শর্করা আরও বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ডায়াজক্সাইড বা থায়াজাইড ডাইইউরেটিকে (রাসায়নিকভাবে সম্পর্কিত) অ্যালার্জি থাকলে।
- শুধু খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন কম শর্করায়।
- হার্ট ফেইলিউর বা যেসব অবস্থায় শরীরে পানি জমা বিপজ্জনক, সেখানে শুধু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে খুব সাবধানে ব্যবহার করা যায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: শরীরে পানি জমে ফোলা ও ওজন বাড়া, মুখ, পিঠ ও হাত-পায়ে অতিরিক্ত লোম (হাইপারট্রিকোসিস), ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, বমি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ ও স্বাদের পরিবর্তন। রক্তের শর্করা বেশি বেড়ে যেতে পারে। কম ক্ষেত্রে: রক্তের শ্বেতকণিকা বা প্লেটলেট কমে যাওয়া, ইউরিক অ্যাসিড বাড়া (গাউট), এবং নবজাতকের ফুসফুসের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া (পালমোনারি হাইপারটেনশন)।
শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস, শিশুর কম খাওয়া বা নীল হয়ে যাওয়া, দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা, খুব বেশি শর্করার লক্ষণ (তীব্র পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ঝিমুনি, গভীর ও দ্রুত শ্বাস), অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, জ্বর বা বারবার সংক্রমণ, অথবা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষের দিকে, ডায়াজক্সাইড সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, কারণ এটি শিশুর রক্তের শর্করায় প্রভাব ফেলতে, শিশুর শরীরে লোম বাড়াতে ও প্রসব ধীর করতে পারে। চিকিৎসক অপরিহার্য মনে করলেই কেবল দেওয়া হয়। বুকের দুধে কতটা যায় তা ভালোভাবে জানা নেই; দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তের শর্করা, রক্তচাপ, ওজন, রক্তকণিকা ও ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা দরকার।
- নবজাতক ও ছোট শিশুদের শরীরে পানি জমা ও শ্বাসের সমস্যার জন্য ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখতে হবে।
- কিডনির রোগ থাকলে কম মাত্রা লাগতে পারে।
- হৃদরোগ, গাউট বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- পরামর্শমতো নিয়মিত খাবার চালিয়ে যান; ডায়াজক্সাইড খাদ্যাভ্যাসের যত্নের বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে খুব বেশি শর্করা হতে পারে, যা কিটোঅ্যাসিডোসিসে (রক্তে বিপজ্জনক অ্যাসিড জমা) গিয়ে ঠেকতে পারে, এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। ঔষধের প্রভাব দীর্ঘক্ষণ থাকে বলে চিকিৎসায় ইনসুলিন, স্যালাইন ও কয়েক দিন ধরে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিহাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট (পটাসিয়াম চ্যানেল ওপেনার, বেনজোথায়াডায়াজিন জাতীয়)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশনের বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর কতদিন ব্যবহার করা যাবে তা লেবেল দেখে মেনে চলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।