ব্যবহার
ডাইক্লোফেনাক ডাইইথাইলামাইন জেল বা স্প্রে হিসেবে ত্বকে লাগিয়ে পেশি, টেন্ডন ও গাঁটের স্থানীয় ব্যথা, ফোলা ও প্রদাহ কমানো হয়। মচকানো, টান লাগা, আঘাতের দাগ, খেলাধুলার আঘাত, কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা এবং হাঁটু ও হাতের মতো ত্বকের কাছাকাছি গাঁটের হালকা থেকে মাঝারি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথায় এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডাইক্লোফেনাক একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধ (NSAID)। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরির এনজাইম (সাইক্লো-অক্সিজেনেজ, COX) আটকে দেয়; প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, ফোলা ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। ডাইইথাইলামাইন লবণ ঔষধকে ত্বক ভেদ করে নিচের টিস্যুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে এটি লাগানোর জায়গাতেই কাজ করে এবং ট্যাবলেটের তুলনায় অনেক কম ঔষধ রক্তে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: জায়গার আকার অনুযায়ী অল্প পরিমাণ জেল (প্রায় একটি চেরি থেকে একটি আখরোটের আকারের) ব্যথার জায়গায় দিনে ৩ থেকে ৪ বার আলতো করে মালিশ করুন, অথবা লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন (হাতেই চিকিৎসা চললে নয়)। লেবেলে লেখা দৈনিক পরিমাণের বেশি ব্যবহার করবেন না। ৭ দিনের মধ্যে ব্যথা না কমলে বা বাড়লে ডাক্তার দেখান। শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকে স্বাভাবিক ব্যবহারে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। একই জায়গায় একসাথে অন্য NSAID পণ্য লাগাবেন না। আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো NSAID ট্যাবলেট, ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ বা রক্তচাপের ঔষধ খেলে বড় জায়গায় বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের আগে ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID এ অ্যালার্জি থাকলে (যেমন এগুলো থেকে হাঁপানি, আমবাত বা নাক দিয়ে পানি পড়া হয়ে থাকলে), গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে, অথবা কাটা, সংক্রমিত বা একজিমাআক্রান্ত ত্বকে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা এবং লাগানোর জায়গায় হয়: লাল ভাব, চুলকানি, জ্বালা, শুষ্কতা বা র্যাশ। ত্বক রোদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। অ্যালার্জি বিরল।
শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, সারা শরীরে র্যাশ বা ত্বকে ফোসকা হলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি শিশুর ক্ষতি করতে বা প্রসবে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম ৬ মাসে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তারের পরামর্শে অল্প সময় ছোট জায়গায় ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কখনো স্তনে নয়।
সতর্কতা
চোখ, মুখ ও শ্লেষ্মাঝিল্লিতে যেন না লাগে। বাতাসরোধী ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না। লাগানো জায়গায় কড়া রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন। হাঁপানি, কিডনির সমস্যা, পাকস্থলীর আলসার বা হৃদরোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘ সময় বড় জায়গায় লাগাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম; অতিরিক্ত অংশ ধুয়ে ফেলুন। জেল গিলে ফেললে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধ (NSAID)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।