ব্যবহার
ডাইক্লোফেনাক পটাশিয়াম দ্রুত কাজ করা ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ। দাঁতের ব্যথা, মাসিকের ব্যথা, অপারেশন বা আঘাতের পরের ব্যথা, মচকানো, কোমর ব্যথা, বাতের ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং মাইগ্রেনের আক্রমণে অল্প সময়ের জন্য ব্যথা ও ফোলা কমাতে এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডাইক্লোফেনাক একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (এনএসএআইডি)। এটি কক্স এনজাইমকে বাধা দিয়ে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি কমায়, যা ব্যথা, ফোলা ও জ্বরের জন্য দায়ী। পটাশিয়াম লবণ দ্রুত শোষিত হয়, তাই এটি অন্য কিছু রূপের চেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫০ mg দিনে ২ বা ৩ বার। ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ mg এর বেশি খাবেন না। মাইগ্রেন: আক্রমণের শুরুতেই ৫০ mg, ডাক্তারের নির্দেশমতো। খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। যত কম মাত্রায় কাজ হয় তত কম মাত্রায়, যত অল্প সময় সম্ভব খান। শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনসহ অন্য এনএসএআইডি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়; একসাথে খাবেন না।
- ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড এবং সারট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধ পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের কাজ কমাতে পারে এবং সেগুলোর সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- এটি লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং সাইক্লোস্পোরিনের কিডনির ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার, অথবা আগে এনএসএআইডির কারণে রক্তপাত বা ছিদ্র হয়ে থাকলে।
- অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডিতে হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়ে থাকলে।
- হার্ট ফেইলিউর, প্রতিষ্ঠিত হৃদরোগ, স্ট্রোক বা পায়ের ধমনি বন্ধ থাকলে।
- লিভার বা কিডনির গুরুতর অকার্যকারিতা থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
- ডাইক্লোফেনাক বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, রক্তচাপ বাড়া, শরীরে পানি জমা এবং লিভার এনজাইম বাড়া।
কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির দানার মতো বমি, বুকে ব্যথা, শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া বা কথা বলতে কষ্ট, শ্বাসকষ্ট বা বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া তীব্র র্যাশ, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব খুব কমে গেলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহ থেকে; শেষ ৩ মাসে একেবারেই খাওয়া যাবে না, কারণ এটি শিশুর হৃদপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসব দেরি করাতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; ডাক্তার রাজি থাকলে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য খাওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি, কিডনি বা লিভারের রোগ, হাঁপানি, ক্রোনস ডিজিজ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা পানিশূন্যতা থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। খাওয়ার সময় গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঝিমুনি, পাকস্থলীতে রক্তপাত ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে, কদাচিৎ খিঁচুনিও হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (এনএসএআইডি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।