ব্যবহার
ডাইক্লোফেনাক ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর ঔষধ। এটি ব্যবহার হয়:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস ও গেঁটেবাতের আক্রমণে ব্যথা ও ফোলা কমাতে।
- কোমরব্যথা, মচকানো, মাংসপেশিতে টান এবং পেশি ও জয়েন্টের অন্যান্য আঘাতে।
- মাসিকের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা ও অপারেশনের পরের ব্যথায়।
- জেল: হাঁটু বা মচকানো গোড়ালির মতো পেশি ও জয়েন্টের নির্দিষ্ট জায়গার ব্যথা ও ফোলায়।
- চোখের ড্রপ: চোখের অপারেশনের পরে প্রদাহ ও ব্যথায়, চোখের ডাক্তারের পরামর্শে।
কীভাবে কাজ করে
ডাইক্লোফেনাক একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAID)। এটি COX নামের এনজাইমকে বাধা দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন শরীরে ব্যথা, ফোলা ও জ্বর সৃষ্টি করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ট্যাবলেট (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে মোট ৭৫ থেকে ১৫০ mg, ২ বা ৩ ভাগে, খাবারের সাথে বা পরে। সব ধরন মিলিয়ে দিনে ১৫০ mg এর বেশি নয়।
- এসআর (ধীরে কাজ করা) ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল: সাধারণত ৭৫ mg দিনে একবার বা দুবার, অথবা ১০০ mg দিনে একবার। আস্ত গিলে খান; ভাঙবেন বা চিবাবেন না।
- সাপোজিটরি: মলদ্বারে দেওয়া হয়, একই দৈনিক সীমার মধ্যে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশিতে দেন, সাধারণত অল্প কয়েক দিনের জন্য।
- জেল: ব্যথার জায়গায় পাতলা করে আলতোভাবে দিনে ৩ বা ৪ বার লাগান। পরে হাত ধুয়ে নিন। কাটা বা ছেঁড়া ত্বকে লাগাবেন না।
- চোখের ড্রপ: চোখের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
যত কম মাত্রায় ও যত অল্প দিন দরকার, তত দিনই ব্যবহার করুন। শিশুদের শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেনসহ অন্য NSAID: পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে; একসাথে খাবেন না।
- ওয়ারফারিনসহ রক্ত পাতলা করার ঔষধ, ক্লোপিডোগ্রেল, প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড এবং সারট্রালিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্তচাপের ঔষধ (ACE ইনহিবিটর, ARB) ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ: এদের কাজ কমতে পারে এবং কিডনির ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক বা পানিশূন্য মানুষের।
- লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট, ডিগক্সিন ও সাইক্লোস্পোরিন: এদের মাত্রা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- ডাইক্লোফেনাকে এলার্জি থাকলে, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID খেলে হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়ার ইতিহাস থাকলে।
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে আলসার থাকলে, বা আগে পেট থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে।
- হার্ট ফেইলিওর, হৃদরোগ, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে থাকলে, বা পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে।
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে গ্যাস, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। জেলে ত্বক সামান্য লাল হতে বা চুলকাতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় খাবেন না। ২০ সপ্তাহের পর এটি শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে পারে, আর শেষ তিন মাসে একেবারেই নিষেধ। বুকের দুধে খুব অল্প যায়; ডাক্তার রাজি থাকলে অল্প দিনের ব্যবহার চলতে পারে। স্তনে জেল লাগাবেন না।
সতর্কতা
ট্যাবলেট খাবারের সাথে খান। বয়স্ক মানুষ এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হাঁপানি, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, বা আগে পেটে আলসার ছিল, তারা বিশেষ সাবধান থাকুন। দীর্ঘদিন খেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও পেটে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। একই সময়ে NSAID আছে এমন অন্য ব্যথার ঔষধ খাবেন না। জেল চোখ থেকে দূরে রাখুন এবং লাগানো জায়গায় কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, পেটে রক্তক্ষরণ, ঝিমুনি এবং কদাচিৎ খিঁচুনি বা কিডনির ক্ষতি হতে পারে। দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAID), ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জেল, চোখের ড্রপ বা ইনজেকশন ফ্রিজে জমাবেন না। চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।