ব্যবহার
ডাইইথাইলকার্বামাজিন সাইট্রেট (সংক্ষেপে DEC) লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এটি মশার মাধ্যমে ছড়ানো একটি কৃমির সংক্রমণ, যাতে পা ফুলে যেতে (গোদ) বা অণ্ডকোষ ফুলে যেতে (হাইড্রোসিল) পারে। ট্রপিক্যাল পালমোনারি ইওসিনোফিলিয়া (কাশি ও শোঁ শোঁ শ্বাস সৃষ্টিকারী ফাইলেরিয়ার ফুসফুসের সমস্যা) ও অন্য কিছু ফাইলেরিয়া সংক্রমণেও এটি দেওয়া হয়। সমাজে রোগের বিস্তার থামাতে গণচিকিৎসা কর্মসূচিতে বছরে একবার অ্যালবেনডাজোলের সাথে এটি খাওয়ানো হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি রক্তের ভেতরের বাচ্চা কৃমি (মাইক্রোফাইলেরিয়া) মেরে ফেলে এবং পূর্ণবয়স্ক কৃমির ক্ষতি করে, অংশত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেগুলো ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী হিসাব করা হয়, আর কত দিন খেতে হবে তা সংক্রমণের ধরনের উপর নির্ভর করে। ডাক্তারের বা স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান।
- পেটের গোলমাল কমাতে খাবারের পরে খান।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, শুধু ডাক্তারের পরামর্শে বা কর্মসূচিতে যেভাবে দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ ঔষধের সাথে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন, বিশেষ করে আইভারমেকটিনের মতো অন্য কৃমিনাশক, সেগুলো ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ডাইইথাইলকার্বামাজিনে এলার্জি থাকলে।
- অনকোসার্কায়াসিস (রিভার ব্লাইন্ডনেস) থাকলে বা থাকার সম্ভাবনা থাকলে, কারণ এতে চোখ ও চামড়ায় গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- ভারী লোয়া লোয়া (চোখের কৃমি) সংক্রমণ থাকলে, কারণ মস্তিষ্কে গুরুতর প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি আছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মরন্ত কৃমির প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া থেকে হয় এবং সাধারণত প্রথম কয়েক দিনে দেখা দেয়: জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, চুলকানি এবং লসিকা গ্রন্থি ফুলে ব্যথা হওয়া। এগুলো সাধারণত নিজে থেকেই কমে যায়; জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
উচ্চ জ্বর না কমলে, শ্বাসকষ্ট, গুরুতর র্যাশ বা মুখ ফুলে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি দেওয়া হয় না; সাধারণত সন্তান জন্মের পর পর্যন্ত চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুকের দুধ খাওয়ালে খাওয়ার আগে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ (মাত্রা কমানো লাগতে পারে), হৃদরোগ, এবং বয়স্ক বা খুব অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। ঔষধ খাওয়ার পর জ্বর এলে বিশ্রাম নিন ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আবার সংক্রমণ এড়াতে মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র বমি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কৃমিনাশক (ফাইলেরিয়ার ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।