ব্যবহার
ডাইইথাইলস্টিলবেস্ট্রল (DES) একটি কৃত্রিম, নন-স্টেরয়েড ইস্ট্রোজেন (স্ত্রী হরমোন)। এখন এটি খুব কম ক্ষেত্রে এবং শুধু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়, মূলত অগ্রসর প্রোস্টেট ক্যানসারের হরমোন চিকিৎসায়, এবং কখনো কখনো মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার অনেক পরে নারীদের কিছু অগ্রসর স্তন ক্যানসারে। একসময় এটি গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত হতো, কিন্তু জন্মের আগে এর সংস্পর্শে আসা শিশুদের ক্ষতি পাওয়া যাওয়ায় কয়েক দশক আগেই তা বন্ধ হয়ে গেছে।
কীভাবে কাজ করে
ডাইইথাইলস্টিলবেস্ট্রল শরীরে প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে। প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষের ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্ককে সংকেত দিয়ে অণ্ডকোষকে টেস্টোস্টেরন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হরমোন কমায়, ফলে টেস্টোস্টেরন কমে যায়; অনেক প্রোস্টেট ক্যানসার বাড়তে টেস্টোস্টেরনের উপর নির্ভর করে, তাই ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর হয়। এটি সরাসরি ক্যানসার কোষের উপরও কাজ করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ক্যানসার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। মাত্রা ব্যক্তিভেদে ঠিক করা হয় এবং চিকিৎসা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে প্রায়ই কম মাত্রার অ্যাসপিরিন বা অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ একসাথে দেওয়া হয়। প্রতিদিন একই সময়ে ট্যাবলেট খান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো যকৃতের এনজাইম বাড়ানো ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- এটি ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, ডায়াবেটিসের ঔষধ ও রক্তচাপের ঔষধের প্রভাব বদলে দিতে পারে।
- এটি সাইক্লোস্পোরিন ও কিছু কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ধূমপান ইস্ট্রোজেন চিকিৎসায় রক্ত জমাট ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় বা গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে।
- ইস্ট্রোজেন-নির্ভর ক্যানসার (উপরের ক্যানসারগুলোতে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার ছাড়া) বা কারণ নির্ণয় না হওয়া যোনিপথে রক্তক্ষরণ থাকলে।
- বর্তমানে বা আগে রক্ত জমাট (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস, পালমোনারি এমবোলিজম), স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে।
- গুরুতর যকৃতের রোগ থাকলে।
- ডাইইথাইলস্টিলবেস্ট্রলে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে স্তনে ব্যথা ও (পুরুষদের) স্তন বড় হওয়া, বমিভাব, শরীরে পানি জমে গোড়ালি ফোলা, ওজন বাড়া, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া ও ইরেকশনের সমস্যা, এবং মাথাব্যথা।
গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে আছে পা বা ফুসফুসে রক্ত জমাট, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর, রক্তচাপ বৃদ্ধি, যকৃতের সমস্যা, এবং হাড়ে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া।
বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা কাশির সাথে রক্ত, এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশ ভাব, কথা বলায় বা দেখায় অসুবিধা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডাইইথাইলস্টিলবেস্ট্রল কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। জন্মের আগে এর সংস্পর্শে কন্যাসন্তানের প্রজনন অঙ্গের অস্বাভাবিকতা ও একটি বিরল যোনি ক্যানসার, এবং পুত্রসন্তানের অন্যান্য সমস্যা হওয়ার কথা জানা গেছে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি ব্যবহার করা যাবে না।
সতর্কতা
- রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্র, যকৃতের পরীক্ষা ও রক্তের ক্যালসিয়ামসহ নিয়মিত পরীক্ষা দরকার।
- হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, মৃগী, কিডনি বা যকৃতের রোগ, বা বিষণ্ণতার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ধূমপান ছাড়ুন; সক্রিয় থাকুন এবং দীর্ঘ সময় নড়াচড়া ছাড়া থাকা এড়িয়ে চলুন।
- রক্ত জমাটের ঝুঁকির কারণে অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘ শয্যাশায়ি থাকার আগে চিকিৎসক চিকিৎসা বন্ধ রাখতে পারেন।
- যাদের মা গর্ভাবস্থায় DES খেয়েছিলেন, তারা চিকিৎসককে জানাবেন, কারণ তাদের বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, বমি এবং নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথে রক্তক্ষরণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসা সহায়ক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কৃত্রিম নন-স্টেরয়েড ইস্ট্রোজেন; হরমোনাল ক্যানসারবিরোধী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। গর্ভবতী নারীরা ভাঙা ট্যাবলেট স্পর্শ করা এড়িয়ে চলবেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।