ব্যবহার
- অ্যালার্জির উপসর্গ, যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, আমবাত ও চুলকানি।
- কাশি; কাশির সিরাপে প্রায়ই অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম সাইট্রেট ও মেন্থলের সাথে থাকে।
- যানবাহনে চলার সময় বমিভাব (মোশন সিকনেস) প্রতিরোধে।
- প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে মাঝে ঘুম না আসার সমস্যায় অল্প সময়ের জন্য।
- হাসপাতালে মারাত্মক অ্যালার্জিতে অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি এর ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ডাইফেনহাইড্রামিন একটি অ্যান্টিহিস্টামিন। এটি হিস্টামিনের কাজ আটকে দেয়, যা অ্যালার্জির উপসর্গ তৈরি করে। এটি মস্তিষ্কেও পৌঁছায়, ফলে ঘুম আসে ও কাশির প্রবণতা কমে, আর নাক ও মুখ শুকিয়ে আনে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী, অ্যালার্জি: সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর ২৫ থেকে ৫০ mg, ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ mg এর বেশি নয়।
- ঘুমের জন্য: ঘুমানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে ৫০ mg, মাত্র কয়েক রাতের জন্য। ঘুমের সমস্যা ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখান।
- কাশির সিরাপ: লেবেলে লেখা মাত্রা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান, কারণ একেক ঔষধের শক্তি একেক রকম।
- শিশু: শুধু লেবেলে সেই বয়সের জন্য লেখা মাত্রায় বা ডাক্তারের পরামর্শে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেবেন না, আর শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য ব্যবহার করবেন না।
- ইনজেকশন: শুধু ডাক্তার বা নার্স দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ঘুমের ঔষধ, ঘুম পাড়ানো ঔষধ, ট্রামাডলের মতো কড়া ব্যথানাশক ও অন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়।
- অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো যেসব ঔষধ মুখ শুকায়, সেগুলোর সাথে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্ট বাড়ে।
- মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটর (MAOI, পুরনো ধরনের বিষণ্ণতার ঔষধ) খাওয়ার সময় বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে এড়িয়ে চলুন।
- মেটোপ্রোললের মতো কিছু ঔষধের রক্তের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- একসাথে দুটি অ্যান্টিহিস্টামিনযুক্ত ঔষধ খাবেন না।
কারা খাবেন না
- ডাইফেনহাইড্রামিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- নবজাতক ও অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশু।
- বুকের দুধ খাওয়ানো মা, ডাক্তার না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব যা পরের দিন পর্যন্ত থাকতে পারে, মাথা ঘোরা, মুখ শুকানো, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্ট। বয়স্করা বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। শিশুরা উত্তেজিত বা অস্থির হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, খিঁচুনি হলে, বুক দ্রুত বা অনিয়মিত ধড়ফড় করলে, অলীক কিছু দেখলে বা প্রস্রাব একেবারে আটকে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা: ডাক্তারের পরামর্শে মাঝে মাঝে খাওয়া সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়; প্রসবের কাছাকাছি সময়ে নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ: এটি দুধে যায়, শিশুকে ঘুমকাতুরে বা খিটখিটে করতে পারে এবং দুধ কমাতে পারে, তাই এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
ঘুম ঘুম লাগলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে সমস্যা, হাঁপানি, মৃগী, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা বা লিভারের রোগ থাকলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। বিভ্রান্তি ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কারণে বয়স্কদের ঘুমের ঔষধ হিসেবে এটি খাওয়া উচিত নয়। কখনও নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের। লক্ষণ: প্রচণ্ড ঘুম বা উত্তেজনা, অলীক কিছু দেখা, গরম ও শুকনো ত্বক, চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ও খিঁচুনি। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রথম প্রজন্মের (ঘুম আনয়নকারী) অ্যান্টিহিস্টামিন; কাশি কমানো ও ঘুমের সহায়ক হিসেবেও ব্যবহার হয়।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।