ব্যবহার
ডাইসোডিয়াম এডিটেট (একে ইডিটিএ-ও বলা হয়) এর ১৭% দ্রবণ দাঁতের রুট ক্যানাল চিকিৎসার সময় দন্ত চিকিৎসকেরা ব্যবহার করেন। ফাইল দিয়ে ক্যানাল পরিষ্কারের সময় ক্যানালের দেয়ালে যে পাতলা আবর্জনার স্তর (স্মিয়ার লেয়ার) জমে, তা গলিয়ে এটি ক্যানাল পরিষ্কার ও আকার দিতে সাহায্য করে। সরু বা আংশিক বন্ধ ক্যানাল খুঁজে বের করে খুলতেও এটি কাজে লাগে। চোখের ড্রপ ও অন্য কিছু ঔষধে স্থিতিশীলকারী উপাদান হিসেবেও ডাইসোডিয়াম এডিটেট অল্প পরিমাণে ব্যবহৃত হয়, তবে এই লেখায় দাঁতের দ্রবণটির কথা বলা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে
ডাইসোডিয়াম এডিটেট একটি কিলেটিং এজেন্ট, অর্থাৎ এটি ধাতব আয়ন আঁকড়ে ধরে রাখে। দাঁতের ভেতরে এটি ডেন্টিন (এনামেলের নিচের শক্ত অংশ) থেকে ক্যালসিয়াম বেঁধে নেয়, এতে ক্যানালের দেয়াল সামান্য নরম হয় এবং স্মিয়ার লেয়ারের খনিজ অংশ আলগা হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসক সহজে ক্যানাল পরিষ্কার করতে পারেন এবং জীবাণুনাশক দ্রবণ ও ফিলিং উপাদান ক্যানালের দেয়ালে ভালোভাবে পৌঁছে আটকে যেতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু পেশাদার দন্ত চিকিৎসার জন্য। দন্ত চিকিৎসক সরু সিরিঞ্জ ও সুই দিয়ে বা পেপার পয়েন্টে করে দ্রবণটি রুট ক্যানালের ভেতরে দেন, সাধারণত প্রায় ১ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলেন। প্রায়ই সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের মতো জীবাণুনাশক দ্রবণের সাথে পালাক্রমে এটি ব্যবহার করা হয়। কতটুকু ও কতক্ষণ দেওয়া হবে তা দন্ত চিকিৎসক ঠিক করেন। এটি রোগীর বাড়িতে ব্যবহারের জন্য নয়, গেলার জন্য নয় এবং ইনজেকশনের জন্যও নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্যানালের ভেতরে ইডিটিএ সরাসরি সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের সাথে মিশলে হাইপোক্লোরাইটের পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায়, তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত মাঝখানে ধুয়ে নেন। ক্লোরহেক্সিডিনের সাথে মিশলে শক্ত তলানি তৈরি হতে পারে। সঠিকভাবে দাঁতে ব্যবহারে মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে কোনো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না, তবু আপনার সব ঔষধের কথা দন্ত চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- এডিটেট (ইডিটিএ) বা দ্রবণের যেকোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- রুট ক্যানালের ভেতর ছাড়া অন্য কোথাও, যেমন মাড়ি বা খোলা ক্ষতে ব্যবহার করা যাবে না।
- ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া বা গেলা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। দ্রবণ দাঁতের শিকড়ের আগা পেরিয়ে গেলে বা মাড়ি, ঠোঁট বা মুখের ভেতরে লাগলে জ্বালা, ব্যথা বা ফোলা হতে পারে। চোখে বা ত্বকে লাগলে জ্বালা হতে পারে। ক্যানালে বেশিক্ষণ রেখে দিলে ডেন্টিন অতিরিক্ত নরম হয়ে যেতে পারে।
গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা গায়ে ফুসকুড়ি) অথবা চিকিৎসার পর তীব্র ও দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসক বা দন্ত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
দাঁতের ভেতরে খুব সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করা হয় এবং শরীরে প্রায় শোষিত হয় না, তাই শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে ধরা হয়। আপনি গর্ভবতী হলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে দন্ত চিকিৎসককে জানান; তিনি আপনার সাথে মিলে চিকিৎসা ও সময় ঠিক করবেন।
সতর্কতা
- দ্রবণ যাতে মুখে না পৌঁছায় বা গিলে ফেলা না হয়, সেজন্য দন্ত চিকিৎসকেরা রাবার ড্যাম ব্যবহার করেন।
- দ্রবণ জোর করে শিকড়ের আগা পেরিয়ে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
- প্রয়োজনের বেশি সময় ক্যানালে রাখা যাবে না।
- চোখে বা ত্বকে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- বোতল নাড়াচাড়ার সময় গ্লাভস ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দাঁতে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ভুল করে বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বেশি পরিমাণ এডিটেট শরীরে গেলে রক্তে ক্যালসিয়াম কমে পেশিতে খিঁচুনি বা ঝিনঝিন ভাব হতে পারে, যার জন্য চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কিলেটিং এজেন্ট; দাঁতের রুট ক্যানাল ধোয়ার দ্রবণ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।