ব্যবহার
ডিএল-মিথিওনিন হলো মিথিওনিনের একটি রূপ, যা একটি অত্যাবশ্যক অ্যামিনো এসিড (প্রোটিনের একটি উপাদান, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না)। বাংলাদেশে এটি মূলত মিশ্র পণ্যে থাকে: অ্যামিনো এসিড ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, লিভার সহায়ক প্রস্তুতি এবং পুষ্টি ইনজেকশন। হাসপাতালে প্যারাসিটামল বেশি খাওয়ার পর প্রতিষেধক হিসেবেও মিথিওনিন ব্যবহার হয়েছে, এবং প্রস্রাব অম্লীয় করতেও এটি ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
মিথিওনিন প্রোটিন তৈরিতে লাগে এবং শরীরকে সালফার জোগায়। লিভার এটি দিয়ে গ্লুটাথায়োন তৈরি করে, যা লিভারের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মিশ্র পণ্যে লেবেল বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। প্যারাসিটামল বেশি খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু হাসপাতালে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। এটি আছে এমন ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। শিশু: শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লেভোডোপার কাজ কমাতে পারে। প্রস্রাব অম্লীয় করতে পারে বলে কিছু ঔষধ শরীর থেকে বের হওয়ার গতি বদলাতে পারে। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
মিথিওনিন বা কোনো উপাদানে এলার্জি, তীব্র লিভারের রোগ (এতে বিভ্রান্তি হতে পারে), মেটাবলিক এসিডোসিস (রক্তে অতিরিক্ত এসিড) এবং অ্যামিনো এসিড প্রক্রিয়াকরণের কিছু জন্মগত রোগ থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমি বমি ভাব, বমি, ঘুম ঘুম ভাব ও খিটখিটে মেজাজ।
বিভ্রান্তি বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, বিশেষ করে লিভারের রোগীদের, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাধারণ খাবারের মিথিওনিন নিরাপদ। গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাপ্লিমেন্ট শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
- লিভার বা কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় রক্তে হোমোসিস্টেইন বাড়তে পারে, যা হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগের সাথে সম্পর্কিত; পরামর্শের চেয়ে বেশি খাবেন না।
- মিশ্র পণ্যের অন্য উপাদানগুলোও দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, ঘুম ঘুম ভাব, নিম্ন রক্তচাপ ও বিভ্রান্তি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামিনো এসিড (পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট; প্রতিষেধক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।