ব্যবহার
ডোফেটিলাইড হৃদস্পন্দনের ছন্দ ঠিক রাখার একটি ঔষধ। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটার, অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের ওপরের প্রকোষ্ঠ দ্রুত ও অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হলে, স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে ও তা বজায় রাখতে এটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত অন্য চিকিৎসায় উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডোফেটিলাইড হৃদপেশির কোষে পটাশিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। এতে প্রতিটি স্পন্দনের পর কোষের পুনরায় প্রস্তুত হওয়ার সময় বাড়ে, ফলে অনিয়মিত বৈদ্যুতিক সংকেত থেমে যায় এবং ছন্দ স্বাভাবিক হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই ঔষধ অবশ্যই হাসপাতালে শুরু করতে হয় এবং অন্তত ৩ দিন একটানা ইসিজি দিয়ে হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করতে হয়, কারণ শুরুর দিনগুলোতে বিপজ্জনক ছন্দের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কিডনির কার্যক্ষমতা ও ইসিজিতে কিউটি ইন্টারভাল দেখে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন। সাধারণত দিনে দুবার, খাবারের আগে বা পরে, চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করতে হয়।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না বা ঔষধ বন্ধ করবেন না।
- কোনো ডোজ বাদ পড়লে সেটি বাদ দিন, পরের ডোজ নির্ধারিত সময়ে নিন। কখনো দ্বিগুণ ডোজ নেবেন না।
- চিকিৎসা চলাকালে নিয়মিত ইসিজি ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ রক্তে ডোফেটিলাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলোর সাথে একসঙ্গে খাওয়া যাবে না: ভেরাপামিল, সিমেটিডিন, ট্রাইমেথোপ্রিম (একা বা সালফামেথক্সাজলের সাথে), কিটোকোনাজল, প্রোক্লোরপেরাজিন, মেজেস্ট্রল, ডলুটেগ্রাভির ও হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড। কিউটি ইন্টারভাল বাড়ায় এমন অন্য ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (ইরিথ্রোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন), অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও অন্য ছন্দ নিয়ন্ত্রক ঔষধ ঝুঁকি বাড়ায়। পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমায় এমন প্রস্রাববর্ধক ঔষধও ঝুঁকি বাড়ায়। আপনি যত ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- ডোফেটিলাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- লং কিউটি সিনড্রোম থাকলে বা ইসিজিতে কিউটি ইন্টারভাল আগে থেকেই দীর্ঘ হলে।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- ওপরে উল্লেখিত প্রতিক্রিয়াকারী ঔষধের যেকোনোটি খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট। সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি হলো টর্সাড দ্য পয়েন্টস নামের বিপজ্জনক দ্রুত হৃদছন্দ, যা চিকিৎসার প্রথম দিনগুলোতে বেশি হয়।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খুব দ্রুত বা ধড়ফড় করা হৃদস্পন্দন, তীব্র মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
শুরুর আগে রক্তে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম স্বাভাবিক থাকতে হবে এবং চিকিৎসার সময় তা পরীক্ষা করতে হবে। তীব্র ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘাম হলে চিকিৎসককে জানান, কারণ এতে পটাশিয়াম কমে যেতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা ও ইসিজি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে মাত্রা কমানো হয়। লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে কিউটি ইন্টারভাল অনেক বেড়ে গিয়ে প্রাণঘাতী হৃদছন্দ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে একটানা হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্লাস III অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (হৃদছন্দ নিয়ন্ত্রক) ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।