ব্যবহার
আলজেইমার্স রোগজনিত হালকা, মাঝারি ও গুরুতর ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) এর লক্ষণ কমাতে ডোনেপেজিল হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহার হয়। এটি কিছুদিনের জন্য স্মৃতি, চিন্তাশক্তি ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতায় সাহায্য করতে পারে। এটি আলজেইমার্স রোগ সারায় না বা রোগের অগ্রগতি থামায় না।
কীভাবে কাজ করে
আলজেইমার্স রোগে স্মৃতি ও শেখার জন্য প্রয়োজনীয় মস্তিষ্কের রাসায়নিক অ্যাসিটাইলকোলিনের মাত্রা কমে যায়। ডোনেপেজিল একটি কোলিনএস্টারেজ ইনহিবিটর: এটি অ্যাসিটাইলকোলিন ভাঙার এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে মস্তিষ্কে এটি বেশি পরিমাণে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে একবার ৫ mg দিয়ে শুরু, সন্ধ্যায় ঘুমানোর আগে। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর ডাক্তার মাত্রা বাড়িয়ে দিনে একবার ১০ mg করতে পারেন। গুরুতর ডিমেনশিয়ায় বিশেষজ্ঞরা কখনো কখনো আরও বেশি মাত্রা দেন, শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। নিয়মিত ডোজ খাওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে একজন দেখভালকারীর সাহায্য করা উচিত। ঔষধটি এখনও কাজ করছে কিনা, ডাক্তার তা পর্যালোচনা করবেন।
কয়েক দিন ঔষধ বন্ধ থাকলে আবার শুরু করার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন, কারণ কম মাত্রা লাগতে পারে। শিশু: ব্যবহারের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত ঔষধ (যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন, অক্সিবাটিনিন ও কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন) ডোনেপেজিলের কাজের বিপরীতে কাজ করতে পারে।
- বিটা ব্লকার (যেমন এটেনোলোল), ডিগোক্সিন ও কিছু ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার হৃদস্পন্দন আরও ধীর করতে পারে।
- হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, ক্লারিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅ্যারিদমিক) ছন্দের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
- কিটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজল ডোনেপেজিলের মাত্রা বাড়াতে পারে; রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন কমাতে পারে।
- আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক (এনএসএআইডি) পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেসথেটিস্টকে জানান যে আপনি ডোনেপেজিল খাচ্ছেন, কারণ এটি কিছু পেশি শিথিলকারক ঔষধের কাজে প্রভাব ফেলে।
কারা খাবেন না
- ডোনেপেজিল বা পিপেরিডিন জাতীয় ঔষধে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা, পেশিতে টান, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, স্পষ্ট স্বপ্ন দেখা, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। এগুলো প্রায়ই হালকা এবং কয়েক সপ্তাহে কমে যায়। ঘুমানোর আগে খেলে সুবিধা হতে পারে।
অজ্ঞান হওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লাগা, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা রক্তবমি (পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ হতে পারে), খিঁচুনি, প্রস্রাবে কষ্ট, পেশি শক্ত হওয়া ও বিভ্রান্তিসহ জ্বর, বা কারণহীন পেশিব্যথাসহ গাঢ় রঙের প্রস্রাব হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীদের ক্ষেত্রে ডোনেপেজিল সাধারণত ব্যবহার হয় না। গর্ভধারণ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা উচিত নয়।
সতর্কতা
- হৃদস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা, ধীর হৃদস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়ার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- পাকস্থলীর আলসার, হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, খিঁচুনি, বা প্রস্রাবে কষ্টের ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- শুরুতে মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি সাধারণ; গাড়ি চালানোর আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- ওজন কমে যেতে পারে; ডাক্তার নিয়মিত ওজন দেখতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, মুখ থেকে লালা পড়া, ঘাম, ধীর হৃদস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, পেশির দুর্বলতা ও খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। হাসপাতালে এট্রোপিন ব্যবহার করা হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডিমেনশিয়ার ঔষধ (কোলিনএস্টারেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।