ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে মাঝে ঘুম আসতে সমস্যা হলে অল্প সময়ের জন্য ডক্সিলামিন ব্যবহার হয়। পাইরিডক্সিনের (ভিটামিন বি৬) সাথে মিলিয়ে এটি গর্ভাবস্থার বমি বমি ভাব ও বমির চিকিৎসায় দেওয়া হয়, যখন খাবার ও জীবনযাপনের পরিবর্তনে যথেষ্ট উপকার হয়নি। কিছু সর্দি-কাশি ও এলার্জির মিশ্র ঔষধেও এটি থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ডক্সিলামিন একটি পুরোনো (প্রথম প্রজন্মের) অ্যান্টিহিস্টামিন। এটি মস্তিষ্কে হিস্টামিন H1 রিসেপ্টর আটকে দেয়, ফলে ঘুম ঘুম ভাব আসে। এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবও আছে (অ্যাসিটাইলকোলিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহককে বাধা দেয়)। এসব কারণে ঘুম আসে এবং বমিভাবের সংকেত কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ঘুমের সমস্যায়, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী: সাধারণত শোয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগে ২৫ mg, দিনে ১ বারের বেশি নয়। শুধু অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন (ডাক্তার না বললে ২ সপ্তাহের বেশি নয়)।
- গর্ভাবস্থার বমি বমি ভাব ও বমিতে (ডক্সিলামিন ১০ mg ও পাইরিডক্সিন ১০ mg, ডিলেইড-রিলিজ ট্যাবলেট): শুরুতে সাধারণত রাতে শোয়ার সময় ২টি ট্যাবলেট। ডাক্তার প্রয়োজনে দিনে সর্বোচ্চ ৪টি পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। খালি পেটে আস্ত গিলে খান; গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মদ, ঘুমের ঔষধ, সিডেটিভ, দুশ্চিন্তার ঔষধ, ওপিওয়েড ব্যথানাশক, অন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ও কিছু বিষণ্ণতার ঔষধ ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায় এবং শ্বাস ধীর করতে পারে। মনোঅ্যামিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর (MAOI) এর সাথে খাবেন না। অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ (যেমন অ্যামিট্রিপটাইলিন বা ট্রাইহেক্সিফেনিডিল) মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবের সমস্যা বাড়ায়। সর্দি-কাশি ও এলার্জির ঔষধে আগে থেকেই ডক্সিলামিন আছে কিনা দেখে নিন, যেন দুবার খাওয়া না হয়।
কারা খাবেন না
- ডক্সিলামিন, একই ধরনের অ্যান্টিহিস্টামিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- এখন বা গত ২ সপ্তাহের মধ্যে MAOI খেয়ে থাকলে।
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- প্রোস্টেট বড় হয়ে প্রস্রাবে কষ্ট হলে, অথবা মূত্রথলি, পাকস্থলী বা অন্ত্রে বাধা থাকলে।
- নবজাতক ও অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব (পরের দিন পর্যন্ত থাকতে পারে), মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবে কষ্ট। বয়স্কদের বিভ্রান্তি বা টলমল ভাব হতে পারে।
হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হলে, তীব্র বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন (অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনা), খিঁচুনি, প্রস্রাব একেবারে না হলে, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
পাইরিডক্সিনের সাথে মিশ্রণটি ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থার বমিভাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং শিশুর জন্য নিরাপদ বলে ধরা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় ঘুমের ঔষধ হিসেবে ডক্সিলামিন খাবেন না। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুর ঘুম ঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ বা কম দুধ খাওয়ার কারণ হতে পারে, তাই ডাক্তার না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
ঔষধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না, যন্ত্র চালাবেন না বা সতর্কতার দরকার এমন কাজ করবেন না। মদ এড়িয়ে চলুন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় বাড়তি সাবধান থাকুন। গ্লুকোমা, প্রোস্টেটের সমস্যা, হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, অথবা লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। ঘুমের সমস্যা ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে ঔষধ চালিয়ে না গিয়ে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, গরম ও শুকনো ত্বক, জ্বর, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি ও মাংসপেশির ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ঘুম আনয়নকারী অ্যান্টিহিস্টামিন (H1 রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।