ব্যবহার
ড্রোটাভেরিন হাইড্রোক্লোরাইড স্মুথ মাসলের (ভেতরের অঙ্গের দেয়ালের মাংসপেশি) খিঁচুনি ও মোচড়ানো ব্যথা কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন:
- পিত্তপথর বা পিত্তনালির প্রদাহের মোচড়ানো ব্যথা (বাইলিয়ারি কলিক);
- কিডনি বা ইউরেটারের পাথরের মোচড়ানো ব্যথা (রেনাল কলিক) ও মূত্রথলির খিঁচুনি;
- পাকস্থলী ও অন্ত্রের খিঁচুনি, ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোমসহ;
- মাসিকের ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া);
- হাসপাতালে প্রসবের সময় ও কিছু পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট খিঁচুনিতে, চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে।
কীভাবে কাজ করে
ড্রোটাভেরিন একটি খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক) ঔষধ। এটি স্মুথ মাসলের কোষের ভেতরে ফসফোডায়াস্টারেজ ৪ (PDE4) নামের এনজাইমকে বাধা দেয়। এতে একটি বার্তাবাহক পদার্থ (সাইক্লিক AMP) বাড়ে, যা মাংসপেশিকে শিথিল করে, ফলে খিঁচুনি কমে। এটি সরাসরি মাংসপেশিতে কাজ করে, তাই কিছু খিঁচুনিরোধীর মতো মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার সমস্যা সাধারণত হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: ৪০ থেকে ৮০ mg দিনে দুই বা তিনবার মুখে খান। দিনে ২৪০ mg এর বেশি খাবেন না।
শিশু: কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে, বয়স অনুযায়ী কম মাত্রায়।
ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশি বা শিরায় দেন, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ব্যথা তীব্র হলে, বারবার ফিরে এলে বা জ্বরসহ হলে বেশি ট্যাবলেট না খেয়ে চিকিৎসক দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ড্রোটাভেরিন পারকিনসন্স রোগে লেভোডোপার কার্যকারিতা কমাতে এবং শক্ত ভাব ও কাঁপুনি বাড়াতে পারে।
- হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইডের মতো অন্য খিঁচুনিরোধী এর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- রক্তচাপ কমানোর ঔষধের সাথে একসাথে খেলে মাথা ঘোরা বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
নিচের ক্ষেত্রে ড্রোটাভেরিন হাইড্রোক্লোরাইড খাবেন না:
- ড্রোটাভেরিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি;
- লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ;
- গুরুতর হার্ট ফেইলিওর;
- সেকেন্ড বা থার্ড ডিগ্রি হার্ট ব্লক নামের গুরুতর হৃৎস্পন্দনের সমস্যা।
কিছু ট্যাবলেটে ল্যাকটোজ থাকে; গ্যালাকটোজ সহ্য না হওয়ার বিরল বংশগত সমস্যা থাকলে এগুলো খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং সাধারণত হালকা: বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুমের সমস্যা, বুক ধড়ফড় করা ও নিম্ন রক্তচাপ।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, চুলকানিযুক্ত র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট (অ্যালার্জি);
- অজ্ঞান হওয়া বা খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিশেষ করে ইনজেকশনের পর;
- জ্বর, বমি, ত্বক হলুদ হওয়া বা প্রস্রাবে রক্তসহ তীব্র ব্যথা, কারণ এগুলো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন অবস্থার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গবেষণায় ক্ষতি দেখা যায়নি, তবে তথ্য সীমিত। চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। প্রসবের সময় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নেন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- নিম্ন রক্তচাপ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- মাথা ঘোরা হতে পারে; এমন হলে, বিশেষ করে ইনজেকশনের পর, গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া পেটের ব্যথা ব্যথানাশক বা খিঁচুনিরোধী দিয়ে চাপা দেবেন না।
- লিভার, কিডনি বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে হার্ট ব্লকসহ হৃৎস্পন্দনের গুরুতর সমস্যা এবং বিরল ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক); স্মুথ মাসল শিথিলকারক (ফসফোডায়াস্টারেজ ৪ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।