ব্যবহার
ডুলাগ্লুটাইড ডায়েট ও ব্যায়ামের সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। এটি একা বা মেটফরমিন ও ইনসুলিনসহ অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সাথে হৃদরোগ বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও কমায়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
ডুলাগ্লুটাইড একটি GLP-1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট। এটি খাওয়ার পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত GLP-1 নামের প্রাকৃতিক হরমোনের মতো কাজ করে। রক্তে শর্করা বেশি থাকলে এটি অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন ছাড়তে সাহায্য করে, গ্লুকাগন (শর্করা বাড়ানো হরমোন) কমায়, পাকস্থলী খালি হওয়া ধীর করে এবং ক্ষুধা কমায়। এতে রক্তের শর্করা কমে এবং প্রায়ই ওজনও কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডুলাগ্লুটাইড সপ্তাহে একবার, প্রতি সপ্তাহে একই দিনে, দিনের যেকোনো সময়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া পেট, উরু বা বাহুর উপরের অংশের ত্বকের নিচে ইনজেকশন দিতে হয়। মাত্রা চিকিৎসকের নির্দেশমতো; সাধারণত কম সাপ্তাহিক মাত্রা দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। প্রথম ইনজেকশন সাধারণত চিকিৎসক বা নার্স দেন বা শিখিয়ে দেন, তারপর রোগী বাড়িতে প্রিফিল্ড পেন দিয়ে নিতে পারেন। ডোজ বাদ পড়লে পরবর্তী ডোজের আগে অন্তত ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) থাকলে নিয়ে নিন; না হলে বাদ দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া (যেমন গ্লিক্লাজাইড বা গ্লিমেপিরাইড): রক্তের শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; এগুলোর মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- পাকস্থলী খালি হওয়া ধীর করে বলে মুখে খাওয়ার ঔষধের শোষণ পরিবর্তন হতে পারে; নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয় এমন ঔষধের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন।
- অন্য GLP-1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।
কারা খাবেন না
- নিজের বা পরিবারের কারও মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সার বা মাল্টিপল এন্ডোক্রাইন নিওপ্লাজিয়া টাইপ ২ (MEN 2) এর ইতিহাস থাকলে।
- ডুলাগ্লুটাইড বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বদহজম, ক্লান্তি ও ইনজেকশনের জায়গায় প্রতিক্রিয়া। এগুলো শুরুতে বেশি হয় এবং সময়ের সাথে কমে। মূলত ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে নিলে রক্তের শর্করা কমে যেতে পারে। কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস), পিত্তপাথর, পানিশূন্যতার কারণে কিডনির সমস্যা এবং ডায়াবেটিক চোখের রোগ বেড়ে যাওয়া।
পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা (বমিসহ বা ছাড়া), তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ, ঘাড়ে পিণ্ড বা ফোলা, গিলতে কষ্ট বা গলা বসে যাওয়া, পানিশূন্যতার লক্ষণসহ তীব্র বমি বা ডায়রিয়া, অথবা বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হওয়াসহ তীব্র শর্করা কমার ঘটনা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডুলাগ্লুটাইড সুপারিশ করা হয় না; সাধারণত ইনসুলিন পছন্দ করা হয়। পরিকল্পিত গর্ভধারণের অন্তত ১ মাস আগে, বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো, এটি বন্ধ করুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- কিডনি সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বিশেষ করে বমি বা ডায়রিয়া হলে।
- আগে প্যানক্রিয়াটাইটিস, পিত্তথলির রোগ, পাকস্থলী বা অন্ত্রের গুরুতর রোগ বা ডায়াবেটিক চোখের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- শর্করা কমার লক্ষণ চিনতে ও তার চিকিৎসা করতে শিখুন।
- অস্ত্রোপচার বা খালি পেটে করতে হয় এমন পরীক্ষার আগে চিকিৎসক বা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান যে আপনি এটি নিচ্ছেন।
- সুঈ বদলালেও কখনো অন্যের সাথে পেন ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তীব্র বমিভাব, বমি ও রক্তের শর্করা কমে যেতে পারে। শর্করা কমে গেলে মিষ্টি খাবার বা পানীয় খান এবং চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ; গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (GLP-1) রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
অব্যবহৃত পেন রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, এবং আলো থেকে রক্ষা করতে বাক্সে রাখুন। একটি পেন ৩০°C এর নিচে ঘরের তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ১৪ দিন রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।