ব্যবহার
ডুলোক্সেটিন একটি ক্যাপসুল, যা ব্যবহার হয়:
- বিষণ্ণতা (মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার)
- জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (দীর্ঘদিনের, নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন দুশ্চিন্তা)
- ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ব্যথা
- ফাইব্রোমায়ালজিয়া এবং কোমর ব্যথা বা হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি মাংসপেশি ও জোড়ার ব্যথা
কীভাবে কাজ করে
ডুলোক্সেটিন মস্তিষ্কের দুটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক, সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন, স্নায়ুকোষে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে বাধা দিয়ে এদের মাত্রা বাড়ায়। এতে মন ভালো হয়, দুশ্চিন্তা কমে এবং ব্যথার অনুভূতি কমে। পুরো উপকার বুঝতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- বিষণ্ণতা: সাধারণত দিনে একবার ৬০ mg। বমি বমি ভাব কমাতে কেউ কেউ এক সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ mg দিয়ে শুরু করেন।
- দুশ্চিন্তা: সাধারণত দিনে একবার ৩০ থেকে ৬০ mg; প্রয়োজনে ডাক্তার বাড়াতে পারেন।
- ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ব্যথা: সাধারণত দিনে একবার ৬০ mg।
- ফাইব্রোমায়ালজিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি মাংসপেশির ব্যথা: সাধারণত এক সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ mg, তারপর দিনে একবার ৬০ mg।
ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে ফেলুন, খাবারের আগে বা পরে; গুঁড়া করবেন না, চিবাবেন না বা খুলবেন না। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার অন্তত ২ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। বিশেষজ্ঞ না দিলে সাধারণত শিশুদের এটি দেওয়া হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সেলেজিলিন বা মোক্লোবেমাইডের মতো এমএও ইনহিবিটর অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, লাইনেজোলিড বা মিথিলিন ব্লুর সাথে খাবেন না। এমএও ইনহিবিটর বন্ধের অন্তত ১৪ দিন পর ডুলোক্সেটিন শুরু করা যায়, আর ডুলোক্সেটিন বন্ধের ৫ দিন পর এমএও ইনহিবিটর।
- ফ্লুভক্সামিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এনোক্সাসিন ডুলোক্সেটিনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়, তাই এদের সাথে খাওয়া উচিত নয়।
- সেরোটোনিন বাড়ায় এমন অন্য ঔষধ (অন্য অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, ট্রামাডল, মাইগ্রেনের ট্রিপট্যান, সেন্ট জনস ওয়ার্ট) সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনের মতো এনএসএআইডি ব্যথানাশক এবং ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- মদ লিভারের ক্ষতি ও ঘুম ঘুম ভাবের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- ডুলোক্সেটিনে অ্যালার্জি
- যারা এমএও ইনহিবিটর খাচ্ছেন বা সম্প্রতি খেয়েছেন
- যারা ফ্লুভক্সামিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা এনোক্সাসিন খাচ্ছেন
- লিভারের রোগ
- কিডনির গুরুতর রোগ
- নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা
- নিয়ন্ত্রণে নেই এমন উচ্চ রক্তচাপ
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বমি বমি ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব বা ঘুমের সমস্যা, মাথা ঘোরা, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবারে অরুচি, ঘাম, ক্লান্তি ও যৌন সমস্যা। বমি বমি ভাব প্রায়ই প্রথম ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর কমে যায়।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, বা হঠাৎ মন খারাপ বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে বা মাত্রা বদলের পর এবং ২৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে
- বিভ্রান্তি, জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি, মাংসপেশি লাফানো ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম)
- ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব বা পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে ব্যথা
- তীব্র র্যাশ, ফোসকা, বা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া
- কালো পায়খানা, রক্তবমি বা অস্বাভাবিক রক্তপাত
- চোখে ব্যথার সাথে ঝাপসা দেখা, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনি
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা গর্ভধারণ বুঝতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে খেলে নবজাতকের মধ্যে ঔষধ বন্ধের মতো উপসর্গ হতে পারে এবং প্রসবের পর বেশি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; চালিয়ে যাবেন কি না ডাক্তার বিবেচনা করবেন। পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
সতর্কতা
- বিশেষ করে শুরুতে রক্তচাপ মাপা উচিত।
- মৃগীরোগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, গ্লুকোমা, রক্তপাতের সমস্যা বা হৃদরোগে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- বয়স্কদের রক্তে সোডিয়াম কমে গিয়ে বিভ্রান্তি, দুর্বলতা বা পড়ে যাওয়া হতে পারে।
- এতে মাথা ঘোরা বা ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; কেমন প্রভাব ফেলে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- মদ্যপান সীমিত করুন।
- হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, শরীরে “বিদ্যুৎ চমকের” মতো অনুভূতি, দুশ্চিন্তা, বমি বমি ভাব ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, বমি, খিঁচুনি, খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, সেরোটোনিন সিনড্রোম ও অচেতনতা হতে পারে, বিশেষ করে অন্য ঔষধ বা মদের সাথে মিশলে তা বিপজ্জনক। সাথে সাথে জরুরি বিভাগে যান এবং প্যাকেটটি সাথে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর (এসএনআরআই)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।