ব্যবহার
ডাইড্রোজেস্টেরন হলো নারী হরমোন প্রোজেস্টেরনের কৃত্রিম রূপ। প্রোজেস্টেরন কম থাকার সাথে সম্পর্কিত সমস্যায় ডাক্তার এটি দেন, যেমন গর্ভপাতের আশঙ্কা বা বারবার গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গর্ভাবস্থার শুরুতে সহায়তা (লুটিয়াল ফেজ সাপোর্ট), অনিয়মিত বা বন্ধ মাসিক, অন্য রোগ ছাড়া অতিরিক্ত বা অনিয়মিত রক্তপাত, মাসিকের ব্যথা, এন্ডোমেট্রিওসিস ও মাসিকের আগের কষ্ট। মেনোপজের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে (HRT) জরায়ুর আস্তরণ রক্ষায় এটি ইস্ট্রোজেনের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি জরায়ুর আস্তরণে প্রাকৃতিক প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে, আস্তরণকে নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি হতে ও ঝরে পড়তে সাহায্য করে এবং গর্ভাবস্থার শুরুতে এটিকে ধরে রাখে। সাধারণ মাত্রায় এটি ডিম্বস্ফোটন বন্ধ করে না, তাই এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের ঔষধ নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট সাধারণত ১০ mg। দিনে কয়টি ট্যাবলেট এবং মাসিক চক্রের কোন দিনগুলোতে খেতে হবে তা রোগের উপর নির্ভর করে, তাই ডাক্তার যেভাবে লিখে দেন ঠিক সেভাবে খান। গর্ভাবস্থা ও বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় এটি শুধু বিশেষজ্ঞের নির্দেশে ব্যবহার হয়। পানি দিয়ে গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে, প্রতিদিন একই সময়ে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটাল, ফেনিটোইন, রিফামপিসিন ও ভেষজ সেন্ট জনস ওয়োর্টের মতো লিভারের এনজাইম বাড়ানো ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ডাইড্রোজেস্টেরন বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- প্রোজেস্টোজেনের উপর নির্ভরশীল টিউমার (যেমন মেনিঞ্জিওমা) থাকলে বা সন্দেহ হলে।
- ডাক্তার পরীক্ষা করেননি এমন যোনিপথে রক্তপাত হলে।
- লিভারের গুরুতর রোগ বা লিভারে টিউমার থাকলে।
- ইস্ট্রোজেনের সাথে ব্যবহারে: যেসব অবস্থায় ইস্ট্রোজেন এড়াতে হয়, যেমন স্তন ক্যান্সার, আগে রক্ত জমাট বাঁধা বা স্ট্রোক।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন, বমি বমি ভাব, স্তনে ব্যথা, পেট ফাঁপা, মেজাজের পরিবর্তন এবং ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বা মাসিকের রক্তপাতে পরিবর্তন।
এলার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট), চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা দেখা বা কথা বলায় সমস্যা, অথবা বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের সাথে খেলে এক পায়ে ব্যথা ও ফোলা, বুকে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শুরুতে শুধু বিশেষজ্ঞ লিখে দিলেই এটি ব্যবহার হয়; নিজে থেকে শুরু বা বন্ধ করবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় অস্বাভাবিক বা বেশি রক্তপাত হলে ডাক্তার দেখান। বিষণ্ণতা, লিভারের সমস্যা বা পোরফাইরিয়ার ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। এটি গর্ভধারণ ঠেকায় না, তাই গর্ভধারণ না চাইলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম। বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (নারী যৌন হরমোন)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।