ব্যবহার
ইকোনাজল নাইট্রেট ছত্রাকনাশক (অ্যান্টিফাঙ্গাল) ঔষধ, যা ত্বকে ও যোনিপথে ব্যবহার করা হয়। এটি যেসব সমস্যায় কাজ করে:
- ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ, যেমন শরীর, কুঁচকি ও পায়ের দাদ
- ত্বক ও ভাঁজের জায়গায় ইস্ট (ক্যানডিডা) সংক্রমণ
- ছুলি (ত্বকে সাদা বা কালচে ছোপ)
- যোনিপথের ইস্ট সংক্রমণ, ভ্যাজাইনাল পেসারি বা ক্রিম দিয়ে
কীভাবে কাজ করে
এটি ছত্রাকের বাইরের আবরণ নষ্ট করে দেয়, ফলে ছত্রাক বাড়তে পারে না এবং মরে যায়। কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও এর হালকা কাজ আছে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ত্বকের ক্রিম (১%): জায়গাটি ধুয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর আক্রান্ত ত্বকে ও তার চারপাশে পাতলা করে লাগান, সাধারণত দিনে ২ বার। ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগান, এবং ত্বক পরিষ্কার দেখানোর পরও প্রায় ২ সপ্তাহ চালিয়ে যান, যাতে সংক্রমণ ফিরে না আসে। হাতের চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন।
ভ্যাজাইনাল পেসারি (১৫০ mg): রাতে ঘুমানোর আগে ১টি পেসারি যোনিপথের ভেতরে দিন, পরপর ৩ রাত, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। আগে ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন: ইকোনাজল কখনও কখনও এর রক্ত পাতলা করার প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই ডাক্তার INR (রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা) দেখতে পারেন।
- যোনিপথের ঔষধ ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে। চিকিৎসার সময় ও পরের কয়েক দিন অন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
ইকোনাজল, একই ধরনের ছত্রাকনাশক (যেমন মাইকোনাজল বা ক্লোট্রিমাজল) বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব। যোনিপথে ব্যবহারে হালকা জ্বালাপোড়া।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। জ্বালা খুব বেড়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব সামান্য পরিমাণ শরীরে শোষিত হয়, তবু গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে এড়িয়ে চলা ভালো। পরের দিকে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। গর্ভাবস্থায় অ্যাপ্লিকেটর ছাড়া হাত দিয়ে পেসারি দিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, এবং স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু বাইরে বা যোনিপথে ব্যবহারের জন্য। খাবেন না, এবং চোখে লাগাবেন না।
- ত্বকে ২ সপ্তাহ বা যোনিপথে ১ সপ্তাহ ব্যবহারের পরও উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
- জায়গাটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, তোয়ালে অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
- প্রথমবার যোনিপথের সংক্রমণ হলে, বারবার হলে, বা জ্বর, পেটব্যথা বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব থাকলে নিজে চিকিৎসার আগে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। ভুল করে খেয়ে ফেললে ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ছত্রাকনাশক (ইমিডাজল শ্রেণি), ত্বক ও যোনিপথে ব্যবহারের জন্য।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।