ব্যবহার
এফিনাকোনাজল নখে লাগানোর একটি ছত্রাকবিরোধী দ্রবণ। এটি পায়ের নখের ছত্রাক সংক্রমণ (অনিকোমাইকোসিস) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যাতে নখ মোটা, বিবর্ণ (সাদা, হলুদ বা বাদামি), ভঙ্গুর হয়ে যায় বা নখের নিচের ত্বক থেকে উঁচু হয়ে ওঠে।
কীভাবে কাজ করে
এফিনাকোনাজল ট্রাইঅ্যাজোল গোষ্ঠীর ছত্রাকবিরোধী ঔষধ। ছত্রাকের কোষঝিল্লির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এরগোস্টেরল তৈরিতে যে এনজাইম দরকার, এটি সেটি আটকে দেয়। এরগোস্টেরল ছাড়া ছত্রাক বাড়তে পারে না এবং মারা যায়। দ্রবণটি এমনভাবে তৈরি যাতে নখের ভেতরে ও নিচে ছড়িয়ে সংক্রমণের জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০% দ্রবণের সাধারণ ব্যবহার হলো দিনে একবার প্রতিটি আক্রান্ত পায়ের নখে ৪৮ সপ্তাহ ধরে, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী। পরিষ্কার ও পুরোপুরি শুকনো নখে ব্রাশ দিয়ে পুরো নখ, আশেপাশের ত্বকের ভাঁজ, কিনারা ও নখের আগার নিচে লাগান। পুরোপুরি শুকাতে দিন। ব্যবহারের সময় নেইলপলিশ বা নখের প্রসাধনী লাগাবেন না। গোসল বা শাওয়ারের অন্তত ১০ মিনিট পর লাগান। সুস্থ নতুন নখ ধীরে বাড়ে, তাই উন্নতি দেখতে অনেক মাস লাগে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব অল্প পরিমাণ রক্তে পৌঁছায় বলে মুখে খাওয়া ঔষধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানা নেই। চিকিৎসাধীন নখে অন্য নখের পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- এফিনাকোনাজল বা দ্রবণের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত লাগানোর জায়গাতেই সীমিত: নখ মাংসে ঢুকে যাওয়া, নখের আশেপাশের ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি, জ্বালা, ফোসকা বা ডার্মাটাইটিস এবং লাগানোর জায়গায় ব্যথা।
সারা শরীরে ফুসকুড়ি, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। নখের চারপাশে লালভাব ছড়িয়ে পড়লে, পুঁজ, তীব্র ব্যথা বা ফোলা হলে চিকিৎসকের কাছে যান, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা দুর্বল রক্তসঞ্চালন থাকলে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব অল্প পরিমাণ শরীরে শোষিত হয়, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। চিকিৎসক পরামর্শ দিলেই ব্যবহার করুন। নখের ছত্রাক জরুরি নয়, তাই অনেক সময় গর্ভাবস্থার পর চিকিৎসা শুরু করা যায়।
সতর্কতা
শুধু পায়ের নখ ও আশেপাশের ত্বকে ব্যবহারের জন্য। চোখ, মুখ বা যোনিতে যেন না যায়। দ্রবণটি দাহ্য: লাগানো ও শুকানোর সময়সহ তাপ ও আগুন থেকে দূরে রাখুন। এটি কিছু কাপড় ও পৃষ্ঠে দাগ বা ক্ষতি করতে পারে। ডায়াবেটিস, দুর্বল রক্তসঞ্চালন বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে চিকিৎসককে পা দেখান। দীর্ঘ চিকিৎসার আগে রোগনির্ণয় নিশ্চিত করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দেশিত পরিমাণের বেশি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য ছত্রাকবিরোধী ঔষধ; ট্রাইঅ্যাজোল।
সংরক্ষণ
ঘরের তাপমাত্রায় ২৫°C এর নিচে, তাপ ও আগুন থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।