ব্যবহার
এফ্লরনিথিন ক্রিম নারীরা মুখের অনাকাঙ্ক্ষিত লোমের (ফেসিয়াল হিরসুটিজম) বৃদ্ধি ধীর করতে ব্যবহার করেন, সাধারণত উপরের ঠোঁট ও থুতনিতে। এটি লোম তোলে না, তাই শেভিং, থ্রেডিং বা ওয়্যাক্সিংয়ের মতো সাধারণ পদ্ধতির সাথে এটি ব্যবহার করা হয়। এফ্লরনিথিন ঘুম রোগের (স্লিপিং সিকনেস) জন্য ইনজেকশন ও শিশুদের এক ধরনের ক্যান্সারের জন্য ট্যাবলেট হিসেবেও তৈরি হয়, তবে সেগুলো হাসপাতালে বিশেষজ্ঞের ঔষধ।
কীভাবে কাজ করে
এফ্লরনিথিন লোমকূপের অরনিথিন ডিকার্বক্সিলেজ নামের একটি এনজাইমকে আটকে দেয়, যা লোমের কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। এতে লোমের বৃদ্ধি ধীর হয়, ফলে তোলার পর লোম ধীরে, সরু ও হালকা রঙের হয়ে গজায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মুখ ও থুতনির নিচের আক্রান্ত জায়গায় দিনে ২ বার, অন্তত ৮ ঘণ্টা ব্যবধানে, পাতলা করে ক্রিম লাগিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। লাগানোর পর অন্তত ৪ ঘণ্টা জায়গাটি ধোবেন না। শেভিং বা লোম তোলার অন্তত ৫ মিনিট পর লাগান, নইলে জ্বালা করতে পারে। ক্রিম শুকিয়ে গেলে মেকআপ বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহে উন্নতি দেখা যায়; ৪ মাসেও উন্নতি না হলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান। বন্ধ করার প্রায় ৮ সপ্তাহ পর লোমের বৃদ্ধি আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্রিমের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো ঔষধের প্রতিক্রিয়া জানা নেই।
- পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় তীব্র পিল বা রেটিনয়েডের মতো জ্বালাদায়ক ত্বকের পণ্য এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- এফ্লরনিথিন বা ক্রিমের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় না।
- কাটা, ছেঁড়া বা সংক্রমিত ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্রণ। এছাড়া জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি, ঝিমঝিম, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, চুলকানি, লালচে ভাব, র্যাশ এবং শেভিংয়ের পর ভেতরে ঢুকে যাওয়া লোম বা ফুসকুড়ি (সিউডোফলিকুলাইটিস) হতে পারে। এগুলো সাধারণত হালকা এবং ব্যবহার চালিয়ে গেলে বা বন্ধ করলে সেরে যায়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট অথবা তীব্র ফোসকাযুক্ত র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের চেষ্টা করলে ব্যবহার করবেন না। বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করবেন না।
সতর্কতা
- কেবল মুখ ও থুতনিতে বাইরে ব্যবহারের জন্য। চোখ, নাকের ভেতর ও মুখের ভেতরে যাতে না লাগে।
- অতিরিক্ত লোম কখনো কখনো পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের মতো হরমোনজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে; কারণ জানতে চিকিৎসক দেখান।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি লাগালে ত্বকের জ্বালা বাড়তে পারে। ক্রিম গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহার্য লোমের বৃদ্ধিরোধক (অরনিথিন ডিকার্বক্সিলেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।