ব্যবহার
এলাসেস্ট্রান্ট মুখে খাওয়ার একটি ক্যান্সারের ঔষধ। ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর (ER) পজিটিভ ও HER2 নেগেটিভ এবং ESR1 জিনে পরিবর্তন (মিউটেশন) থাকা অগ্রসর বা ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যান্সারে, মেনোপজ হয়ে যাওয়া নারী ও পুরুষদের ক্ষেত্রে, যাদের অন্তত একটি আগের হরমোন চিকিৎসার পরও রোগ বেড়েছে, এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
অনেক স্তন ক্যান্সার বাড়ার জন্য ইস্ট্রোজেন হরমোন ব্যবহার করে। এলাসেস্ট্রান্ট ক্যান্সার কোষের ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে তাকে আটকে দেয় এবং রিসেপ্টরটি ভেঙে ফেলে। তাই একে সিলেক্টিভ ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর ডিগ্রেডার (SERD) বলা হয়। ESR1 মিউটেশনের কারণে অন্য কিছু হরমোন চিকিৎসায় কাজ না হলেও এটি কাজ করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি বিশেষায়িত ক্যান্সারের ঔষধ, তাই অনকোলজিস্টের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিকভাবে নিতে হবে, সাধারণত দিনে একবার খাবারের সাথে, প্রতিদিন একই সময়ে। ট্যাবলেট পানি দিয়ে পুরো গিলে ফেলুন। পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না বা বন্ধ করবেন না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী বা মাঝারি CYP3A4 প্রতিরোধক এর মাত্রা বাড়াতে পারে; ডাক্তার না বললে এড়িয়ে চলুন
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েনের মতো CYP3A4 বৃদ্ধিকারক এর কার্যকারিতা কমাতে পারে
- জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) ও এর রস এড়িয়ে চলুন
- এটি রসুভাস্টাটিন ও ডিগক্সিনের মতো কিছু ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে
কারা খাবেন না
- এলাসেস্ট্রান্ট বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, গিঁট ও পেশিতে ব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, গরম লাগা এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া।
গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ, তীব্র বা একটানা বমি, ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, অথবা হঠাৎ এক পায়ে ফোলা ও ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এলাসেস্ট্রান্ট গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ মাত্রার পর ১ সপ্তাহ কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে; নারী সঙ্গী থাকা পুরুষদেরও একই সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসার সময় এবং শেষ মাত্রার পর ১ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন রক্তের চর্বি (কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড) পরীক্ষা করা হয়। লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করতে হয় এবং মাত্রা কমানো লাগতে পারে। বমিভাব প্রায়ই হয়, এর জন্য বমিরোধী ঔষধ লাগতে পারে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সব সাক্ষাৎ ও রক্ত পরীক্ষা মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমিভাব ও বমির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সাররোধী হরমোন চিকিৎসা; সিলেক্টিভ ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর ডিগ্রেডার (SERD)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।