ব্যবহার
এখানে সেইসব মুখে খাওয়ার দ্রবণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ইলেকট্রোলাইট (সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, কখনো সোডিয়াম সালফেট) এর সাথে ম্যাক্রোগল (পলিইথিলিন গ্লাইকল) মেশানো থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত হয়ে আটকে থাকা মল (ফিকাল ইমপ্যাকশন) এবং বেশি পরিমাণে কোলোনোস্কপি, এক্স-রে বা অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ম্যাক্রোগল শরীরে শোষিত হয় না। এটি অন্ত্রে পানি ধরে রাখে, ফলে মল নরম ও পরিমাণে বেশি হয়ে সহজে বের হয়। সাথে থাকা ইলেকট্রোলাইট শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য ঠিক রাখে, যাতে অন্ত্র ধোয়ার তরল শরীর থেকে টেনে না নেয় বা শরীর থেকে হারিয়ে না যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশনা হুবহু মেনে চলুন, কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্র পরিষ্কারের মাত্রা আলাদা। কোষ্ঠকাঠিন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেপে পানিতে মিশিয়ে বা যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খান। অন্ত্র পরিষ্কারের জন্য নির্ধারিত সময়ে পুরো পরিমাণ পান করুন এবং হাসপাতালের দেওয়া খাবার ও উপবাসের নির্দেশনা মানুন। শিশুদের মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্ত্র পরিষ্কারের আগে প্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যে বা চলাকালীন মুখে খাওয়া অন্য ঔষধ বের হয়ে যেতে পারে ও শোষিত নাও হতে পারে; বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, মৃগীর ঔষধ ও ডায়াবেটিসের ঔষধের সময় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- গিলতে সমস্যার জন্য পানীয় ঘন করার উপাদান ম্যাক্রোগলের সাথে কাজ নাও করতে পারে।
- তরল ও লবণের পরিবর্তনের কারণে ডাইইউরেটিক বা হৃদরোগের ঔষধের সাথে সাবধানতা দরকার।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে বাধা বা ছিদ্র থাকলে বা এর ঝুঁকি থাকলে।
- গুরুতর প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগে (যেমন গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন)।
- গুরুতর পানিশূন্যতা বা সংশোধন না করা লবণের ভারসাম্যহীনতায়।
- ম্যাক্রোগল বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পেট ফাঁপা, পেটে মোচড়ানো ব্যথা, বমিভাব, গ্যাস ও ডায়রিয়া। অন্ত্র পরিষ্কারের সময় বমি ও মলদ্বারে জ্বালা হতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পানিশূন্যতার লক্ষণ (মাথা ঘোরা, খুব কম প্রস্রাব, প্রচণ্ড পিপাসা), খিঁচুনি, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, মলে রক্ত বা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ম্যাক্রোগল প্রায় শোষিত হয় না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি সাধারণত উপযুক্ত ধরা হয়। অন্ত্র পরিষ্কারের মাত্রা কেবল চিকিৎসক পরীক্ষাটি প্রয়োজনীয় মনে করলেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- পানিশূন্যতা এড়াতে অন্ত্র পরিষ্কারের সময় পর্যাপ্ত স্বচ্ছ তরল পান করুন।
- বয়স্ক, হৃদরোগ বা কিডনি রোগ কিংবা গিলতে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার।
- কোষ্ঠকাঠিন্য ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে বা বারবার হলে চিকিৎসক দেখান; পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না।
- অন্ত্র পরিষ্কারের দ্রবণ খাওয়ার পরপর গাড়ি চালাবেন না, কারণ বারবার টয়লেটে যেতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। সেবন বন্ধ করে তরল পান করুন এবং চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা লাগে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ ও অন্ত্র পরিষ্কারক প্রস্তুতি (ইলেকট্রোলাইটসহ ম্যাক্রোগল)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানো বা খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।