ব্যবহার
ইলেক্সাক্যাফটর সিস্টিক ফাইব্রোসিস (CF) চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, যাদের CFTR জিনে অন্তত একটি F508del মিউটেশন বা অন্য কোনো সাড়া দেওয়া পরিবর্তন আছে তাদের জন্য। এটি শুধু টেজাক্যাফটর ও আইভাক্যাফটরের সাথে তিনটি ঔষধের সম্মিলিত চিকিৎসা হিসেবে পাওয়া যায়, যার সাথে আলাদা একটি আইভাক্যাফটর ডোজ নিতে হয়। জিনগত পরীক্ষার পর CF বিশেষজ্ঞ এটি লিখে দেন।
কীভাবে কাজ করে
CF এর কারণ ত্রুটিপূর্ণ CFTR প্রোটিন, যা স্বাভাবিকভাবে কোষের পৃষ্ঠ দিয়ে ক্লোরাইড (লবণ) ও পানি চলাচল করায়। ইলেক্সাক্যাফটর নতুন প্রজন্মের CFTR করেক্টর। এটি টেজাক্যাফটরের থেকে ভিন্ন জায়গায় কাজ করে, এবং একসাথে তারা আরও বেশি প্রোটিনকে সঠিক আকার নিতে ও কোষের পৃষ্ঠে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এরপর আইভাক্যাফটর চ্যানেল খোলা রাখে। এই তিনমুখী কাজ শ্লেষ্মা পাতলা করে, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পুষ্টি উন্নত করে এবং ঘামে ক্লোরাইডের মাত্রা কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
CF বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিক সেভাবে সেবন করুন। সাধারণত সকালে সম্মিলিত ট্যাবলেট এবং সন্ধ্যায় একটি আইভাক্যাফটর ট্যাবলেট, প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে, প্রতিবার চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে (যেমন ডিম, মাখন, পনির, পূর্ণ ননিযুক্ত দুধ, দই বা বাদাম) খেতে হয়। শিশুদের মাত্রা বয়স ও ওজনের উপর নির্ভর করে। মাঝারি লিভার রোগে বা কিছু প্রতিক্রিয়াকারী ঔষধের সাথে মাত্রা কমানো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- শক্তিশালী CYP3A ইনডিউসার (রিফাম্পিসিন, রিফাবুটিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবার্বিটাল, সেন্ট জনস ওয়ের্ট) এর মাত্রা অনেক কমায়; এড়িয়ে চলুন।
- শক্তিশালী ও মাঝারি CYP3A ইনহিবিটর (কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, পোসাকোনাজল, ভোরিকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, ফ্লুকোনাজল, ইরিথ্রোমাইসিন) এর মাত্রা বাড়ায়; মাত্রা কমাতে হয়।
- গ্রেপফ্রুট ও সেভিল কমলা এড়িয়ে চলুন।
- এটি ডিগক্সিন, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ওয়ারফারিন ও কিছু স্ট্যাটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে; পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
কারা খাবেন না
ইলেক্সাক্যাফটর, টেজাক্যাফটর, আইভাক্যাফটর বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে সেবন করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, উপরি শ্বাসনালীর সংক্রমণ, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, র্যাশ, লিভারের এনজাইম বাড়া, ক্রিয়েটিন কাইনেজ (পেশির এনজাইম) বাড়া, নাক বন্ধ, ফ্লুর মতো লক্ষণ ও বিলিরুবিন বাড়া। কদাচিৎ গুরুতর লিভার ক্ষতি ও লিভার বিকল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্বেগ, মন খারাপ বা ঘুমের সমস্যার মতো মেজাজের পরিবর্তনও দেখা গেছে। কিছু শিশুর ছানি দেখা গেছে।
ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, পেটের ডান দিকের উপরে ব্যথা, তীব্র বমিভাব বা বমি, বিভ্রান্তি, তীব্র র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় অভিজ্ঞতা সীমিত। এই চিকিৎসা CF আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে, তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন। কিছু হরমোনজাত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সাথে র্যাশের সম্পর্ক থাকতে পারে; চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন। বুকের দুধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- শুরুর আগে, প্রথম ৬ মাস প্রতি মাসে, তারপর প্রতি ৩ মাসে এবং পরে বছরে একবার লিভার পরীক্ষা (ALT, AST ও বিলিরুবিন) করা হয়।
- গুরুতর লিভার রোগে সুপারিশ করা হয় না।
- শিশুদের চিকিৎসার আগে ও চলাকালে চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
- মেজাজ বা আচরণে পরিবর্তন হলে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
CFTR করেক্টর (নতুন প্রজন্ম); সিস্টিক ফাইব্রোসিস ট্রান্সমেম্ব্রেন কনডাক্ট্যান্স রেগুলেটর মডিউলেটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, আসল প্যাকে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।