ব্যবহার
এলট্রোমবোপ্যাগ একটি বিশেষজ্ঞ-নির্ভর ঔষধ, যা রক্তে কমে যাওয়া প্লেটলেট বাড়াতে ব্যবহার হয়। স্টেরয়েডের মতো অন্য চিকিৎসায় যথেষ্ট কাজ না হলে দীর্ঘমেয়াদি ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (ITP) তে, দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সি রোগীদের প্লেটলেট কম থাকলে যাতে হেপাটাইটিসের চিকিৎসা দেওয়া যায়, এবং গুরুতর অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (অস্থিমজ্জা যথেষ্ট রক্তকণিকা তৈরি করতে না পারা) তে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন থ্রম্বোপয়েটিনের মতো কাজ করে, যা অস্থিমজ্জাকে প্লেটলেট তৈরির সংকেত দেয়। এতে প্লেটলেট তৈরি বাড়ে এবং রক্তপাতের ঝুঁকি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নিয়মিত প্লেটলেট পরীক্ষার ফল দেখে বিশেষজ্ঞ (রক্তরোগ বা লিভার বিশেষজ্ঞ) মাত্রা ঠিক ও পরিবর্তন করেন; ঠিক যেভাবে লেখা আছে সেভাবে খান, সাধারণত দিনে একবার। খালি পেটে খান: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, অ্যান্টাসিড, এবং ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট বা খাবারের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে, কারণ এগুলো ঔষধের শোষণ আটকে দেয়। ডাক্তার না বললে হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে প্লেটলেট কমে রক্তপাত হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট এবং দুগ্ধজাত খাবার এর শোষণ অনেক কমিয়ে দেয়। এটি রোসুভাস্ট্যাটিন ও আরও কিছু স্ট্যাটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই স্ট্যাটিনের মাত্রা কমাতে হতে পারে। সাইক্লোস্পোরিন ও কিছু এইচআইভি ঔষধ এর মাত্রা বদলে দিতে পারে। যত ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
এলট্রোমবোপ্যাগ বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। লিভারের উল্লেখযোগ্য রোগ থাকলে খুব সাবধানে, অথবা একেবারেই ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ক্লান্তি, পেশি বা জোড়ায় ব্যথা এবং লিভারের রক্ত পরীক্ষায় পরিবর্তন। চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, প্রস্রাব গাঢ় হওয়া বা পেটের ডান পাশের ওপরে ব্যথা (লিভারের সমস্যা); এক পায়ে ব্যথা, ফোলা বা গরম ভাব, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া (রক্ত জমাট); অথবা কালো পায়খানা বা রক্তবমির মতো গুরুতর রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং পরে ডাক্তারের বলা সময় পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত প্লেটলেট ও লিভারের রক্ত পরীক্ষা এবং ছানির জন্য চোখ পরীক্ষা দরকার। প্লেটলেট নিরাপদ মাত্রায় না আসা পর্যন্ত আঘাত ও রক্তপাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন। পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষ এবং লিভারের রোগীদের প্রায়ই কম মাত্রা লাগে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে প্লেটলেট অতিরিক্ত বেড়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং লিভারের ক্ষতি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
থ্রম্বোপয়েটিন রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট (প্লেটলেট বাড়ানোর ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, মূল প্যাকেটে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।