ব্যবহার
এমট্রিসিটাবিন একটি অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ, যা সবসময় অন্যান্য এইচআইভি ঔষধের সাথে মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের এইচআইভি-১ সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। টেনোফোভিরের সাথে মিলিয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (প্রেপ) হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
মানুষের কোষের ভেতরে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে এইচআইভি রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ নামের একটি এনজাইম ব্যবহার করে। এমট্রিসিটাবিন এই এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ কমে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সেরে উঠতে সাহায্য পায়। এটি এইচআইভি নিরাময় করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার ২০০ mg মুখে, খাবারের সাথে বা ছাড়া, চিকিৎসকের নির্ধারিত সম্মিলিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে। কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে ডোজের ব্যবধান বাড়ানো হয়, এবং শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন।
- প্রতিদিন একই সময়ে খান এবং কোনো ডোজ বাদ দেবেন না, কারণ ডোজ বাদ পড়লে ভাইরাস ঔষধ প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে।
- চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে ঔষধ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একইভাবে কাজ করা ল্যামিভুডিন বা আগে থেকেই এমট্রিসিটাবিনযুক্ত অন্য ঔষধের সাথে এটি খাবেন না। কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন উচ্চমাত্রার এনএসএআইডি, অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, অ্যাসাইক্লোভির ও গ্যানসাইক্লোভির, এর মাত্রা বাড়াতে বা কিডনির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। ভেষজসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- এমট্রিসিটাবিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- প্রেপ হিসেবে: যারা ইতিমধ্যে এইচআইভি পজিটিভ বা যাদের এইচআইভি অবস্থা অজানা, তারা শুধু প্রতিরোধের জন্য এটি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, মাথা ঘোরা, র্যাশ, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং হাতের তালু বা পায়ের তলার ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া। এইচআইভি চিকিৎসায় শরীরের চর্বির বণ্টনে পরিবর্তন ও রক্তে চর্বি বাড়তে পারে।
দ্রুত বা গভীর শ্বাস, তীব্র ক্লান্তি, বমিভাব ও বমিসহ পেটব্যথা (ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস হতে পারে), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, অথবা ফোসকা বা ফোলাসহ তীব্র র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মাকে সুরক্ষা দিতে এবং শিশুর মধ্যে এইচআইভি ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থায় এইচআইভি চিকিৎসার অংশ হিসেবে এমট্রিসিটাবিন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এইচআইভি আক্রান্ত মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে পরামর্শ স্থানীয় নির্দেশিকা ও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে; চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
শুরুর আগে হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করান। হেপাটাইটিস বি থাকলে এমট্রিসিটাবিন বন্ধ করলে লিভারের রোগ হঠাৎ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে, তাই বন্ধ করার পর কয়েক মাস লিভারের পরীক্ষা দরকার। নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এই ঔষধ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ ঠেকায় না, তাই কনডম ও নিরাপদ অভ্যাস মেনে চলুন। প্রেপ চলাকালে নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন সম্পর্কে তথ্য কম। চিকিৎসা নিন; সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে ঔষধের কিছু অংশ বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল, নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ ইনহিবিটর (এনআরটিআই)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।