ব্যবহার
এনালাপ্রিল ম্যালিয়েট উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিওরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যাদের হৃৎপিণ্ড দুর্বলভাবে রক্ত পাম্প করে কিন্তু এখনো উপসর্গ নেই (লেফট ভেন্ট্রিকুলার ডিসফাংশন), তাদের হার্ট ফেইলিওরের উপসর্গ প্রতিরোধেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি এসিই ইনহিবিটর। লিভারে এটি সক্রিয় এনালাপ্রিলাটে পরিণত হয়, যা অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম বন্ধ করে। এতে অ্যাঞ্জিওটেনসিন ২ কমে, যে হরমোন রক্তনালী সরু করে এবং শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে। ফলে রক্তনালী শিথিল হয়, রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডকে কম কষ্ট করতে হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে সেবন করুন। উচ্চ রক্তচাপে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে একবার ৫ mg দিয়ে শুরু করা হয় (ডাইইউরেটিক সেবনকারী, বয়স্ক বা কিডনির সমস্যায় আরও কম); সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা দিনে ১০ mg থেকে ২০ mg, সর্বোচ্চ দিনে ৪০ mg, একবারে বা দুই ভাগে। হার্ট ফেইলিওরে দিনে ২.৫ mg দিয়ে শুরু করে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ, স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, ট্রাইমেথোপ্রিম ও হেপারিন রক্তে পটাশিয়াম অতিরিক্ত বাড়াতে পারে।
- ডাইইউরেটিক ও অন্য রক্তচাপের ঔষধ, বিশেষ করে শুরুতে, রক্তচাপ অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
- এনএসএআইডি (যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) এর কার্যকারিতা কমায় ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে অ্যালিসকিরেনের সাথে, অথবা স্যাকিউবিট্রিল/ভালসারটানের সাথে একসাথে খাবেন না (দুটির মাঝে ৩৬ ঘণ্টা বিরতি দিন)।
কারা খাবেন না
- এনালাপ্রিল বা অন্য এসিই ইনহিবিটরে অ্যালার্জি থাকলে।
- অ্যাঞ্জিওইডিমার (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফোলা) ইতিহাস থাকলে, বংশগত বা কারণ অজানা হলেও।
- গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে।
- ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় অ্যালিসকিরেনের সাথে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে শুকনো খুসখুসে কাশি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া, বমিভাব ও স্বাদের পরিবর্তন। রক্তে পটাশিয়াম বাড়তে পারে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা পরিবর্তিত হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফোলা অথবা শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট (অ্যাঞ্জিওইডিমা), অজ্ঞান হওয়া, তীব্র পেটব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ, খুব কম প্রস্রাব, অথবা জ্বর ও গলাব্যথার মতো সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এনালাপ্রিল ব্যবহার করা যাবে না, কারণ বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকের পর এটি গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণ করলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে ঔষধ বদলান। নবজাতক বা অপরিণত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত সুপারিশ করা হয় না; চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- বিশেষ করে শুরুতে ও মাত্রা বদলানোর পর কিডনি ও পটাশিয়ামের রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন।
- প্রথম ডোজে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে, বিশেষ করে পানিশূন্যতা বা ডাইইউরেটিক সেবনে; পরামর্শ দিলে প্রথম ডোজ রাতে শোয়ার আগে খান।
- বমি বা ডায়রিয়া হলে চিকিৎসককে জানান, কারণ পানিশূন্যতায় নিম্ন রক্তচাপ ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- অস্ত্রোপচারের আগে সার্জন বা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে মূলত খুব নিম্ন রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া ও কিডনির সমস্যা হয়। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উচ্চ রক্তচাপরোধী, অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (এসিই) ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।