ব্যবহার
এই টিকা জাপানিজ এনকেফালাইটিস থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি মশার কামড়ে ছড়ানো মস্তিষ্কের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার গ্রামীণ ও কৃষি এলাকায় দেখা যায়। বেশিরভাগ সংক্রমণ হালকা, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনকেফালাইটিস) হয়ে খিঁচুনি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যু ঘটতে পারে। রোগটি আছে এমন এলাকায় বসবাসকারী বা ভ্রমণকারীদের সাধারণত ৯ মাস বয়স থেকে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এখানে বর্ণিত পণ্যটি একটি জীবন্ত, দুর্বল করা (অ্যাটেনুয়েটেড) টিকা, যা একটি ক্ষতিকর নয় এমন ইয়েলো ফিভার টিকার ভাইরাসে জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাসের জিন বসিয়ে তৈরি। এটি শরীরে অল্প পরিমাণে বাড়ে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আসল ভাইরাস চিনতে অ্যান্টিবডি ও রোগপ্রতিরোধক কোষ তৈরি করতে শেখায়, যা দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার, নার্স বা প্রশিক্ষিত টিকাদানকর্মী এটি চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে দেন। কয়টি ডোজ লাগবে এবং শিশুদের বুস্টার দরকার কি না, তা ডাক্তার বা জাতীয় কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী ঠিক হয়। ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য সংস্পর্শের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে টিকা সম্পন্ন করা ভালো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- উচ্চমাত্রার প্রেডনিসোলোন, কেমোথেরাপি বা মিথোট্রেক্সেটের মতো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো ঔষধ জীবন্ত টিকাকে অনিরাপদ বা কম কার্যকর করতে পারে।
- আগের কয়েক মাসে ইমিউনোগ্লোবুলিন বা রক্তজাত পণ্য নিলে সাড়া কম হতে পারে; সময় ডাক্তার ঠিক করবেন।
- অন্য জীবন্ত টিকা সাধারণত একই দিনে অথবা অন্তত ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে দেওয়া হয়।
কারা খাবেন না
- আগের ডোজে বা টিকার কোনো উপাদানে মারাত্মক অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে, যেমন কম সিডি৪ সহ এইচআইভি, ক্যান্সারের চিকিৎসা, উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড বা অন্য রোগপ্রতিরোধ দমনকারী চিকিৎসা, বা জন্মগত রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি।
- গর্ভাবস্থা।
- সতর্কতা হিসেবে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- উচ্চ জ্বর বা তীব্র অসুখ থাকলে (টিকা পিছিয়ে দেওয়া হয়)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লাল হওয়া বা ফোলা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, হালকা জ্বর এবং শিশুদের খিটখিটে ভাব বা খেতে না চাওয়া, যা সাধারণত ১ থেকে ৩ দিন থাকে। বিরল: মারাত্মক অ্যালার্জি। এ ধরনের জীবন্ত টিকার ক্ষেত্রে খুব বিরল গুরুতর স্নায়ুতন্ত্র বা অঙ্গের প্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে।
টিকার পর শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত হওয়ার সাথে তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা হাত পা দুর্বল হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি জীবন্ত টিকা, তাই গর্ভাবস্থায় দেওয়া যাবে না। টিকার পর ৪ সপ্তাহ গর্ভধারণ এড়িয়ে চলতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না; সুরক্ষা দরকার হলে জীবন্ত নয় এমন (নিষ্ক্রিয়) টিকা বিবেচনা করা যেতে পারে।
সতর্কতা
কোনো অসুখ, অ্যালার্জি, রোগপ্রতিরোধের সমস্যা, ঔষধ, গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানো, এবং ইয়েলো ফিভার টিকায় কোনো প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে টিকাদানকর্মীকে জানান। টিকার পর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। টিকা সবাইকে সুরক্ষা দেয় না, তাই মশারি, মশা তাড়ানোর ক্রিম ও লম্বা হাতার পোশাক দিয়ে মশার কামড় এড়ানো এখনো জরুরি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি মাপা ডোজ দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভুলে বাড়তি ডোজ দেওয়া হলে ডাক্তারকে জানান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাইরাল টিকা, জীবন্ত দুর্বল করা (জাপানিজ এনকেফালাইটিস)
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না। আলো থেকে দূরে রাখুন। গোলানোর পর প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করতে হয়। সাধারণত ক্লিনিক বা ফার্মেসি সংরক্ষণ করে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।