ব্যবহার
এনোক্সাপারিন সোডিয়াম ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া রক্ত তরলকারী (অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট) ঔষধ। এটি ব্যবহার হয়:
- অস্ত্রোপচারের পর, বিশেষ করে হিপ বা হাঁটু প্রতিস্থাপন ও পেটের অস্ত্রোপচারে, এবং গুরুতর অসুস্থতায় শয্যাশায়ী রোগীদের শিরায় রক্ত জমাট প্রতিরোধে;
- পায়ের শিরায় (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) বা ফুসফুসে (পালমোনারি এমবোলিজম) জমে থাকা রক্তের চিকিৎসায়;
- কিছু ধরনের হার্ট অ্যাটাক ও আনস্টেবল অ্যানজাইনায়, হৃদরোগের অন্য ঔষধের সাথে;
- কিডনি ডায়ালাইসিসের সময় যন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকাতে।
কীভাবে কাজ করে
এনোক্সাপারিন একটি লো মলিকুলার ওয়েট হেপারিন। এটি রক্তের প্রাকৃতিক উপাদান অ্যান্টিথ্রম্বিনকে শক্তিশালী করে, যা রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানগুলোকে (মূলত ফ্যাক্টর Xa) বাধা দেয়। ফলে নতুন জমাট তৈরি হয় না এবং পুরনো জমাট বড় হয় না, আর শরীর ধীরে ধীরে তা ভেঙে ফেলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এনোক্সাপারিন পেটের চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, সাধারণত ডাক্তার বা নার্স দেন। কিছু রোগীকে বাড়িতে নিজে ইনজেকশন নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হার্ট অ্যাটাক ও ডায়ালাইসিসে হাসপাতালে শিরাপথেও দেওয়া হতে পারে।
মাত্রা নির্ভর করে কেন দেওয়া হচ্ছে, শরীরের ওজন ও কিডনির কার্যক্ষমতার ওপর, এবং সবসময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না বা আগেই বন্ধ করবেন না।
নিজে ইনজেকশন নিলে: আগে থেকে ভরা সিরিঞ্জের বাতাসের বুদবুদ বের করবেন না, পেটের চামড়া চিমটি দিয়ে ধরে পালাক্রমে দুই পাশে দিন, এবং পরে জায়গাটি ঘষবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রক্ত জমাটে প্রভাব ফেলে এমন অন্য ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে, যেমন ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, অন্যান্য অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ এবং আইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক (এনএসএআইডি)। স্পাইরোনোল্যাকটোন বা এসিই ইনহিবিটরের সাথে রক্তে পটাশিয়াম বাড়তে পারে। আপনার সব ঔষধ ও ভেষজ পণ্যের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- সক্রিয় বড় রক্তপাত বা রক্তপাতের উচ্চ ঝুঁকি থাকলে, যেমন সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
- গত ১০০ দিনের মধ্যে হেপারিনজনিত থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (হেপারিনের কারণে প্লেটলেট মারাত্মক কমে যাওয়া) হয়ে থাকলে
- এনোক্সাপারিন, হেপারিন বা শূকরজাত পণ্যে এলার্জি থাকলে
- চিকিৎসা মাত্রায় ব্যবহারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পাইনাল বা এপিডিউরাল অ্যানেসথেসিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ইনজেকশনের জায়গায় কালশিটে, ব্যথা বা ছোট গুটি, সামান্য রক্তপাত (যেমন নাক বা মাড়ি দিয়ে), এবং লিভার পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাড় পাতলা হতে পারে।
যেকোনো গুরুতর রক্তপাতে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, প্রস্রাবে রক্ত, রক্তবমি, কাশির সাথে রক্ত, তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি। স্পাইনাল বা এপিডিউরাল ইনজেকশনের পর পিঠে ব্যথা, অবশ ভাব বা পায়ে দুর্বলতা, গুরুতর এলার্জি, বা ইনজেকশনের জায়গার চারপাশে ব্যথাযুক্ত কালচে ত্বক হলেও জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এনোক্সাপারিন গর্ভফুল পার হয় না এবং ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। বুকের দুধে খুব সামান্য যায় এবং শিশুর অন্ত্র থেকে শোষিত হয় না, তাই সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় ডাক্তার প্লেটলেট, কিডনির কার্যক্ষমতা ও পটাশিয়াম পরীক্ষা করতে পারেন।
- কিডনির রোগ, কম ওজন, বয়স্ক, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলীর আলসার ও লিভারের রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- অস্ত্রোপচার, স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া বা দাঁত তোলার আগে ডাক্তার বা দন্তচিকিৎসককে জানান যে আপনি এনোক্সাপারিন নিচ্ছেন।
- মাংসপেশিতে ইনজেকশন দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে গুরুতর রক্তপাত হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে প্রোটামিন সালফেট দিয়ে এর প্রভাব আংশিক কমানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (লো মলিকুলার ওয়েট হেপারিন)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।