জেনেরিক ঔষধ

Entrectinib

  • 3 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 2 টি কোম্পানি

ব্যবহার

এন্ট্রেক্টিনিব একটি লক্ষ্যভেদী ক্যান্সারের ঔষধ। ROS1-পজিটিভ অগ্রসর নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের এবং NTRK জিন ফিউশন (এক ধরনের জিনগত পরিবর্তন) যুক্ত অগ্রসর কঠিন টিউমারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়, যখন অন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার আগে ল্যাব পরীক্ষায় এই জিনগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা হয়।

কীভাবে কাজ করে

এন্ট্রেক্টিনিব একটি টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর। কিছু ক্যান্সার জিন ফিউশনের কারণে সবসময় চালু থাকা অস্বাভাবিক প্রোটিনের (TRK, ROS1 বা ALK) কারণে বাড়ে। এন্ট্রেক্টিনিব এই প্রোটিনগুলো আটকে দিয়ে বৃদ্ধির সংকেত বন্ধ করে, ফলে ক্যান্সার ধীরে বাড়ে বা ছোট হয়। এটি মস্তিষ্কেও পৌঁছাতে পারে, তাই সেখানে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারেও কাজ করতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দিনে একবার, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া ক্যাপসুল খেতে হয়। শিশুদের মাত্রা শরীরের আকারের উপর নির্ভর করে। ক্যাপসুল আস্ত গিলে ফেলুন। ডোজের পর বমি হলে অতিরিক্ত ডোজ নেবেন না; পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে নিন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসক মাত্রা কমাতে বা চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রাখতে পারেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • কিটোকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন বা ইট্রাকোনাজলের মতো CYP3A ইনহিবিটর: এন্ট্রেক্টিনিবের মাত্রা বাড়ায়; এড়িয়ে চলুন বা ডোজ কমানো হয়।
  • রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটয়েন বা সেন্ট জন’স ওয়ার্টের মতো CYP3A ইনডিউসার: মাত্রা ও কার্যকারিতা কমায়; এড়িয়ে চলুন।
  • জাম্বুরা ও জাম্বুরার রস: এড়িয়ে চলুন।
  • QT বাড়ায় এমন ঔষধ: হৃদছন্দের ঝুঁকি বাড়ে।

কারা খাবেন না

  • এন্ট্রেক্টিনিব বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ক্লান্তি, স্বাদের পরিবর্তন, মাথা ঘোরা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, বমিভাব, ওজন বাড়া, হাত-পা ফুলে যাওয়া, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, হাত-পায়ে ঝিমঝিম, ঝাপসা দেখা ও শ্বাসকষ্ট। এটি স্মৃতি বা মেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা, ইউরিক অ্যাসিড বাড়া, লিভারের সমস্যা, হার্ট ফেইলিওর, হৃদছন্দের পরিবর্তন ও হাড় ভাঙাও ঘটাতে পারে।

বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা ফোলা, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, পড়ে গিয়ে হাড়ে ব্যথা, বা তীব্র মাথা ঘোরা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

এন্ট্রেক্টিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর ৫ সপ্তাহ, এবং পুরুষদের ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এটি হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই কনডমের মতো ব্যারিয়ার পদ্ধতিও ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন এবং শেষ ডোজের পর ৭ দিন বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

সতর্কতা

  • নিয়মিত লিভার টেস্ট, ইউরিক অ্যাসিড, হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ও ECG পরীক্ষা প্রয়োজন।
  • মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা বা বিভ্রান্তি হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
  • হাড়ে নতুন ব্যথা বা হাঁটতে সমস্যা হলে জানান।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

অতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ক্যান্সার প্রতিরোধী, টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর (TRK, ROS1 ও ALK ইনহিবিটর)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আসল প্যাকেটে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Entrectinib এর ব্র্যান্ড

3 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।