ব্যবহার
এফেড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট ও সিরাপ নাক বন্ধ ভাব কমাতে এবং কিছু ক্ষেত্রে হালকা হাঁপানি বা শ্বাসনালী সরু হয়ে যাওয়ায় শ্বাসনালী খুলতে ব্যবহার হয়, যদিও হাঁপানিতে এখন সাধারণত আধুনিক ইনহেলার বেশি পছন্দ করা হয়। ইনজেকশন হাসপাতালে অজ্ঞান করার সময় কমে যাওয়া রক্তচাপ বাড়াতে ব্যবহার হয়, যেমন সিজারিয়ানের সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়ায়।
কীভাবে কাজ করে
এফেড্রিন একটি সিমপ্যাথোমিমেটিক ঔষধ: এটি শরীরের নিজস্ব অ্যাড্রেনালিনের মতো কাজ করে, সরাসরি রিসেপ্টরে এবং নরঅ্যাড্রেনালিন বের করিয়ে। এটি শ্বাসনালীর চারপাশের মাংসপেশি শিথিল করে, নাকের ফোলা রক্তনালী সরু করে এবং হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত মুখে ১৫ থেকে ৬০ mg, দিনে সর্বোচ্চ তিনবার, কাজ করে এমন সবচেয়ে কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। শেষ ডোজ সন্ধ্যার পর দেরিতে খাবেন না, এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, বয়স অনুযায়ী দেওয়া মাত্রায়। ইনজেকশন: হাসপাতালে অ্যানেস্থেটিস্ট বা ডাক্তার রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করে দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন ফেনেলজিন, সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড) চলাকালীন বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না; রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
- অন্য ডিকনজেস্ট্যান্ট, উত্তেজক ঔষধ, থিওফাইলিন ও ক্যাফেইনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ে।
- ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও কিছু অজ্ঞানকারক গ্যাসে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ে।
- এটি রক্তচাপের ঔষধ ও বিটা-ব্লকারের কাজ কমাতে পারে।
- এটি ডেক্সামেথাসোনের কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ বা মারাত্মক হৃদরোগ থাকলে।
- থাইরয়েড অতিসক্রিয় হলে।
- ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার) থাকলে।
- বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
- এফেড্রিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো নার্ভাস লাগা, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, রক্তচাপ বাড়া, ক্ষুধা কমা, বমি বমি ভাব, এবং বড় প্রোস্টেটের পুরুষদের প্রস্রাবে কষ্ট।
বুকে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, একদম প্রস্রাব না হওয়া, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় ট্যাবলেট ও সিরাপ এড়িয়ে চলুন। প্রসবের সময় অজ্ঞান করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ইনজেকশন ব্যবহার হয়। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে খিটখিটে করতে পারে; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ, বড় প্রোস্টেট, গ্লুকোমা বা কিডনির রোগ থাকলে, বা বয়স্ক হলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না; সময়ের সাথে এর কাজ কমে যেতে পারে এবং এতে অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
- অন্য সর্দির ঔষধ, ওজন কমানোর ঔষধ বা উত্তেজক পণ্যের সাথে মিলিয়ে খাবেন না।
- প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় এটি নিষিদ্ধ উপাদান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, তীব্র উত্তেজনা, হ্যালুসিনেশন, খিঁচুনি ও জ্ঞান হারানো হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশু গিলে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিমপ্যাথোমিমেটিক (শ্বাসনালী প্রসারক, নাকের ডিকনজেস্ট্যান্ট ও রক্তচাপ বৃদ্ধিকারক)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।